চুনতি বনে গাছের ডালে কৃষকের ‘টংঘর’

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি বনাঞ্চলের গভীর জঙ্গলে বড় বড় গাছের ওপর দেখা মেলে ব্যতিক্রমী টংঘরের।
পাহাড়ি এলাকায় কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষ এসব টংঘর তৈরি করে ফসল ও কৃষিজদ্রব্য পাহারা দেওয়ার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর আক্রমণ থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখেন। আপলোড করা ছবিতে দেখা যায়, একটি বড় গাছের সঙ্গে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে উঁচু একটি টংঘর। সেখানে ওঠানামার জন্য গাছের সঙ্গে বাঁশের সিঁড়িও রয়েছে। স্থানীয় কৃষকেরা পাহাড়ের ঢাল কিংবা সমতল জায়গায় কৃষিজদ্রব্য রক্ষার জন্য এ ধরনের টংঘর তৈরি করেন। চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ পাহাড়ি বনাঞ্চলজুড়ে অবস্থিত।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ অভয়ারণ্যের আয়তন ৭ হাজার ৭৬৪ হেক্টর। এ অঞ্চলে বন্য হাতির বিচরণ রয়েছে। আধুনগরের কৃষক নুরুল কবির জানান, রাতে বন্য হাতি ফসলের জমিতে আসার আশঙ্কা থাকায় টংঘর তাদের পাহারার কাজে সহায়তা করে। টংঘরে অবস্থান করে তাঁরা শব্দ সৃষ্টি করতে ডাকঢোল বাজান কিংবা আগুনের মশাল ব্যবহার করে হাতির উপস্থিতি টের পেলে ফসলের জমি থেকে হাতিকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। চুনতি বনাঞ্চলে মানুষ ও বন্য হাতির সহাবস্থান দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়েও এ এলাকায় হাতি সংরক্ষণ এবং মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম হয়েছে।
পাহাড়ি কৃষকের কাছে তাই টংঘর শুধু একটি অস্থায়ী কাঠামো নয়; রাতের বেলায় ফসল পাহারা এবং সম্ভাব্য বন্যপ্রাণীর আক্রমণ থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখার একটি স্থানীয় ব্যবস্থা হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।
ভোরের আকাশ/ এনউব