গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিকের দাফন সম্পন্ন

গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলা আন্দোলনে হামলায় নিহত পোশাক শ্রমিক তৌফিক হোসেনকে তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায় দাফন করা হয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয় বলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল জানিয়েছেন।
গাজীপুরের ‘লায়লা স্টাইল লিমিটেড’ এর শ্রমিক নিহত তৌফিকের লাশ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছয়ঘরিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে চারপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।
পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, গত সোমবার গাজীপুর নগরীর জয়দেবপুর থানার বাহাদুরপুর এলাকায় সংঘর্ষের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করার সময় আন্দোলনকারীরা লাঠি ও ইট দিয়ে তৌফিকের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তৌফিক ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবিবর রহমান তবির ছেলে ও ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি ২০২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
তার জানাজায় ইমামতি করেন ছয়ঘরিয়া জামে মসজিদের ইমাম মো. বাবলু মিয়া।
স্বজন ও এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাবার মৃত্যুর পর সংসারের অভাব ঘোচাতে এক বন্ধুর মাধ্যমে পোশাক কারখানায় চাকরি নেন তৌফিক। তিনি গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।
তৈরি পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকদিন ধরে চলা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেন, “হতদরিদ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তৌফিক। তার অকাল মৃত্যুতে গর্ভবতী স্ত্রী শারমিন বেগম দেড় বছরের ছেলেকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন।”
সমাজের বৃত্তবান ও সরকারের কাছে এই পরিবারের প্রতি সাহায্যেরে হাত বাড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তৌফিক হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার বড় ভাই হারুন মিয়া।
ভোরের আকাশ/ এনউব