নাভারন পুরাতন বাজারের খাস জমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারন পুরাতন বাজারে খাস শ্রেণিভুক্ত প্রায় আড়াই বিঘা সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তোলা স্থাপনা স্বেচ্ছায় সরিয়ে নিতে দখলদারদের কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাভারন পুরাতন বাজার সরেজমিনে পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম সাইফুল্লাহ। এ সময় তিনি বাজারের খাস জমিতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের দ্রুত নিজ নিজ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে ইউএনও জানান, জনস্বার্থে পূর্ব প্রতিশ্রুত প্রকল্পের আওতায় নাভারন পুরাতন বাজারে শিগগিরই হাট-চাঁদনী নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করা প্রয়োজন। এ কারণে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা সংশ্লিষ্টদের স্বেচ্ছায় সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাজারে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হবে। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্ধারিত স্থানে জায়গা বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নাভারন পুরাতন বাজারের বিপুল পরিমাণ খাস জমি একটি শ্রেণির ব্যক্তি অবৈধভাবে দখল করে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা ও ভাড়া দিয়ে আসছেন। এমনকি কোথাও কোথাও স্থাপনা নির্মাণ কিংবা খালি সরকারি জায়গা দখল করে তা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অন্যদের কাছে সাবলিজ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দখল করা ওই সরকারি জমিতে বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ জনের মতো ব্যক্তি মাছ ও তরকারির দোকান, চা-পানের দোকান, ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করে সেখানে পরিকল্পিতভাবে হাট-চাঁদনী নির্মাণ করা হলে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সুবিধা বাড়বে। পাশাপাশি বাজারের ব্যবস্থাপনাও আরও সুশৃঙ্খল হবে।
পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে ছিলেন নাভারন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. আনিসুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সিএ মো. এমদাদুল হক ইমদাদ এবং উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. তোফাজ্জল হোসেন।
ভোরের আকাশ/ এনউব