শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিক্ষোভ স্কুলে তালা, পুলিশ হেফাজতে শিক্ষক

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কুমারুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। দশম শ্রেণির মানবিক শাখার এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বইছে সমালোচনার ঝড়। অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে এনেছে পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার এ ঘটনার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা। একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের সব শ্রেণিকক্ষ ও অফিসকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ চলে। এ সময় বিদ্যালয় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর (রবিবার) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমারুলী বাজারসংলগ্ন একটি প্রাইভেট পড়ানোর কক্ষে ওই শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক ওই বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার সহকারী শিক্ষক খালেকুজ্জামান জামান সুজন(৪০)। তিনি কুমারুলী গ্রামের প্রয়াত আব্দুল আজিজ ভূঁইয়ার ছেলে।
অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হলে গত মঙ্গলবার শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে গিয়ে বিচার দাবি করেন। পরে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ঘটনার প্রাথমিকভাবে খোঁজ নেওয়া হয়। পরে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবিতে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী।
বিক্ষোভ চলাকালে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ও অফিসকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কাশেমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাডেমিক সুপারভাইজার আবু হানিফও সেখানে উপস্থিত হন। তারা তদন্ত করে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা সরে যান।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আবু হানিফ বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হবে। আগামী রোববার থেকে বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস চলবে। সঠিক তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসতে পারবেন না।
স্থানীয় অভিভাবক বাচ্চু মিয়া বলেন, ওই শিক্ষক তার প্রাইভেট সেন্টারে শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানার পর থেকেই এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।
বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আমাকে দায়িত্ব দিলে আমি ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে যাই। সেখানে শিক্ষার্থী তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা আমার কাছে স্বীকার করেছে। তার বক্তব্যের একটি অডিও রেকর্ডও রয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক চাঁন মিয়া বলেন, গত মঙ্গলবার শিক্ষার্থীর পরিবার ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এসে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বিচারপ্রার্থী হন। পরে অফিস সহকারীকে দিয়ে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি যাচাই করা হয়। শিক্ষার্থী ঘটনার কথা জানিয়েছে। আমরা চাই, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করুক এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক খালেকুজ্জামান জামান সুজন বলেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কল্পকাহিনি। এলাকার একটি কুচক্রী মহল এবং স্কুলের শিক্ষক-স্টাফদের একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যাচার করছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত বিষয়ে বিস্তারিত জানার পর আজ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ভাবে একাডেমিক সুপারভাইজারকে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। বিদ্যালয়ের পাঠদানের উপযোগী পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
ভোরের আকাশ/আ.র