সালথায় জনদুর্ভোগ কমাতে ৬৫০ ফুট সড়ক নির্মাণ

ফরিদপুরের সালথায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে একের পর এক রাস্তা নির্মাণ, সংস্কার, বাঁশের সাঁকো ও কালভার্ট মেরামতের কাজ করে আলোচনায় এসেছেন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মো. এনায়েত হোসেন।
এবার উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া ভদ্রপাড়ায় ৬৫০ ফুট ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন তিনি। তাঁর এমন উদ্যোগে এলাকার দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার সমাধানের আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউসুফদিয়া ভদ্রপাড়ার দীর্ঘদিনের চলাচলের অনুপযোগী কাঁচা রাস্তায় ইটের সোলিং বসানোর কাজ চলছে। স্থানীয় শ্রমিকেরা রাস্তার মাটি প্রস্তুত ও ইট বিছানোর কাজে ব্যস্ত। নির্মাণকাজ শেষ হলে এলাকাবাসীর যাতায়াতের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটি দিয়ে ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও ইউসুফদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী নিয়মিত যাতায়াত করে। এ ছাড়া সহস্রাধিক পরিবারের কয়েক হাজার মানুষের চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ এটি। প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দারা এ সড়ক ব্যবহার করে সালথা সদর ও ইউসুফদিয়া বাজারে যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী থাকায় বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তিতে পড়তে হতো পথচারীদের।
এর আগেও ভাওয়াল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন এনায়েত হোসেন। এর মধ্যে রয়েছে ইউসুফদিয়া ইজারাপাড়া গ্রামে ৯০০ ফুট কাঁচা রাস্তা নির্মাণ ও ১৫০ ফুট ইটের সোলিং, শিহিপুর গ্রামে ১০০ ফুট ইটের রাস্তা সংস্কার ও সোলিং, ভরকামদিয়া-তুগোলদিয়া আঞ্চলিক সড়কের সেতুর দুই পাশে ঢালাই, উত্তর পুরুরা গ্রামে ধসে যাওয়া রাস্তা ঢালাই দিয়ে সংস্কার ও ৮০০ ফুট কাঁচা রাস্তা নির্মাণ।
এ ছাড়া বারখাদিয়া গ্রামে ৭০০ ফুট কাঁচা রাস্তা, তুগোলদিয়া গ্রামে ১৫০ ফুট ইটের সোলিং রাস্তা এবং তুগোলদিয়া-ইউসুফদিয়া সংযোগস্থলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন তিনি। সম্প্রতি ইউসুফদিয়া-মোন্তার মোড় আঞ্চলিক সড়কের ইজারাপাড়া ডাঙ্গী জামে মসজিদসংলগ্ন ভাঙা কালভার্টও মেরামত করেন। এসব কাজের ধারাবাহিকতায় এবার ভদ্রপাড়ায় নতুন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করতে আমাদের অনেক কষ্ট হতো। বিশেষ করে বর্ষার সময় কাদা-পানিতে রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ত। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের নিয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হতো। এনায়েত হোসেন নিজ উদ্যোগে রাস্তাটি নির্মাণের কাজ শুরু করায় আমরা খুবই খুশি। কাজটি শেষ হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।’
আরেক বাসিন্দা নুরইসলাম বলেন, ‘গ্রামের মানুষের চলাচলের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসার মতো মানুষ খুব কম পাওয়া যায়। এনায়েত এর আগেও এলাকার কয়েকটি রাস্তা ও সাঁকো নির্মাণ করেছেন। এবার আমাদের এলাকার রাস্তাটির কাজ শুরু করেছেন। আমরা চাই, কাজটি ভালোভাবে শেষ হোক। তাঁর এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।’
এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মো. এনায়েত হোসেন বলেন, ‘রাজনীতি করি মানুষের জন্য। এলাকার মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ দেখলে নিজের কাছে খারাপ লাগে। সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। মানুষের উপকারে আসতে পারাটাই আমার কাছে বড় পাওয়া। ভবিষ্যতেও সামর্থ্য অনুযায়ী এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।’
ভোরের আকাশ/রই