শিরোনাম
নয়াপল্টনের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণসড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতরা পাবেন ১-৫ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবেসৌদিতে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৭ বাংলাদেশিডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৫৫মার্কিন ভিসা নিয়ে সতর্ক করলো দূতাবাসসিপাহি-জনতার বিপ্লবে অপশক্তি পরাভূত হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রীবিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দামজাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীনয়াপল্টনের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণসড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতরা পাবেন ১-৫ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবেসৌদিতে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৭ বাংলাদেশিডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৫৫মার্কিন ভিসা নিয়ে সতর্ক করলো দূতাবাসসিপাহি-জনতার বিপ্লবে অপশক্তি পরাভূত হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রীবিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দামজাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

সৌদিতে প্রাণ হারানো প্রবাসীর পরিবারে নেমেছে দুর্ভোগের ছায়া

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬, ১:৫৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে বজ্রপাতে নিহত কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌরসভার পশ্চিম ধুলজুরী গ্রামের প্রবাসী রাসেল মিয়ার মৃত্যুর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও তার পরিবার এখনও প্রতিশ্রুত সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও চার সন্তান চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১০ মার্চ সৌদি আরবে কর্মস্থলে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান রাসেল মিয়া। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী শাহানাজ ও চার সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাঙাচোরা একটি ঘরে বসবাস করছেন শাহানাজ। পরিবারের কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস নেই। অনেক সময় একবেলা খাবার খেয়েই দিন পার করতে হচ্ছে। আর্থিক সংকটের কারণে সন্তানদের লেখাপড়াও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

এরই মধ্যে স্বামীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই মাত্র ১৬ দিনের ব্যবধানে নিজের মাকেও হারান শাহানাজ। চার সন্তানকে নিয়ে এখন তিনি অসহায় জীবনযাপন করছেন।

রাসেলের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো তো দূরের কথা, অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থাও করা সম্ভব হচ্ছে না।

রাসেলের মৃত্যুর পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে কিছু খাদ্যসামগ্রী, পোশাক ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সহায়তা ও অনুদানের আশ্বাসও দেওয়া হয়। তবে পরিবারের দাবি, এরপর আর উল্লেখযোগ্য কোনো সহায়তা তারা পাননি।

শাহানাজ বলেন,
“স্বামী চলে যাওয়ার পর মা-ও মারা গেছেন। আমার আপন বলতে এখন কেউ নেই। চার সন্তানকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব বুঝতে পারছি না। অনেক সময় সন্তানদের ঠিকমতো খাবারও দিতে পারি না। সরকারি সহযোগিতার আশায় আছি, কিন্তু এখনো তেমন কোনো সহায়তা পাইনি।”

প্রতিবেশী আবু রায়হান বলেন, পরিবারটি বর্তমানে চরম মানবিক সংকটে রয়েছে। তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি দ্রুত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

টানা বর্ষণে দুই অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা

স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মিসবাহ উদ্দিন মানিক বলেন, রাসেল মিয়ার পরিবারকে শুধু এককালীন সহায়তা নয়, স্থায়ী পুনর্বাসনের আওতায় আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিধবা ভাতা, শিশুদের শিক্ষা সহায়তা ও নিয়মিত সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এলাকাবাসীর মতে, একজন প্রবাসীর মৃত্যু শুধু একটি প্রাণহানি নয়, একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের বড় ক্ষতি। তাই রাসেল মিয়ার চার সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

ভোরের আকাশ/জেআ

কিশোরগঞ্জবিধবা ভাতাপ্রবাসীর মৃত্যু

শেয়ার করুন: