গাইবান্ধায় পরিচ্ছন্নকর্মীদের পাশে প্রশাসন ও মানবিক ব্যবসায়ী

গাইবান্ধা শহরকে প্রতিদিন পরিচ্ছন্ন রাখেন যাঁরা, সেই পরিচ্ছন্নকর্মীরাই বছরের পর বছর থেকেছেন অবহেলা আর বৈষম্যের শিকার। হোটেলে বসে খেতে না দেওয়া, কাঁচের কাপে চা না দেওয়ার মতো মানবেতর আচরণের অভিযোগ সম্প্রতি আলোচনায় আসে স্থানীয় হরিজন সম্প্রদায়কে ঘিরে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সেই সংবাদ প্রকাশের পর এবার তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন ও এক মানবিক ব্যবসায়ী। ঈদুল আজহা সামনে রেখে উপহার ও আর্থিক সহায়তা পেয়ে খুশিতে ভাসছেন শতাধিক পরিবার।

বুধবার (২৭ মে) বিকেলে গাইবান্ধা শহরের স্বাধীনতা প্রাঙ্গণে ব্যতিক্রমী এক আয়োজনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হরিজন সম্প্রদায়ের শতাধিক পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।
গত ২৫ মে 'অবহেলার দেয়ালে বন্দি হরিজনরা' এই শিরোনামে দৈনিক ভোরের আকাশ পত্রিকার অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকাসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই সংবাদ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী এগিয়ে আসেন। তিনি হরিজন পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে ঈদ উপহার হিসেবে নগদ এক হাজার টাকা প্রদান করেন।
একই সঙ্গে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনি সহ আট ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।
উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পরিচ্ছন্নকর্মীরা। তাঁদের ভাষ্য, সমাজে নানা বৈষম্য আর অবহেলার মধ্যে এমন সম্মান ও ভালোবাসা আগে খুব কমই পেয়েছেন তাঁরা। ঈদের আগে এই সহায়তা তাদের পরিবারে কিছুটা হলেও আনন্দ এনে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব নীলিমা আখতার, এ কে এম হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, “যারা প্রতিদিন আমাদের শহর, অফিস-আদালত ও রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন রাখেন, তারাও এই সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করতেই এই আয়োজন।
মৌ রানী বাসফোর বলেন, আমাদেরকে হোটেলে বসতে দেয়না, চায়ের কাপে চা দেয়না। আমরা পরিচ্ছন্নকর্মী জন্য আমাদের কেউ মানুষ মনে করেনা। আজ ডিসি সাব আমাদের কাছে বসালেন, নিজের হাতে টাকা ও ঈদের উপহার তুলে দিলেন। এবার আমরাও ঈদ করবো।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সমাজের অবহেলিত ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন মানবিক উদ্যোগ বৈষম্য কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ঈদের আগে সামান্য সম্মান আর ভালোবাসাই যেন নতুন করে হাসি ফিরিয়েছে পরিচ্ছন্নকর্মীদের মুখে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ