কমোডিটি বাজারে পাঁচ বছরের কর সুবিধা চায়

চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার বলেছেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ খাতকে জাতীয় বাজেটে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নের জন্য একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।
তিনি মনে করেন, সিএসইর কমোডিটি সেগমেন্টকে পাঁচ বছরের কর অবকাশ দেওয়া হলে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক বাজার গড়ে তোলা সহজ হবে।
রোববার দুপুরে সিএসই আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সিএসই চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান, শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম, শাহজাদা মাহমুদ চৌধুরী এবং কোম্পানি সেক্রেটারি রাজীব সাহাও উপস্থিত ছিলেন।
সাইফুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করছে। তবে এখনো দেশে এমন কোনো সুসংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর কমোডিটি মার্কেট গড়ে ওঠেনি, যেখানে পণ্যের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, মূল্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ বাজার পরিস্থিতির পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব।
তিনি জানান, সরকার কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর লক্ষ্যে লাইসেন্স সক্রিয়করণ, প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরামর্শক যুক্ত করার যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।
এদিকে সিএসই ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো প্রস্তুত করেছে এবং কার্যক্রম শুরুর জন্য অপেক্ষা করছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষা।
তিনি বলেন, বিশ্বমানের একটি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ পরিচালনা করতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন। সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যেও সিএসই এ খাতে বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। তাই কমোডিটি সেগমেন্টে পাঁচ বছরের কর ছাড় দেওয়া হলে বাজারের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট সম্পর্কে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর উপস্থাপিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
বাজেটে পুঁজিবাজারের আধুনিকায়ন, ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি, দ্রুত লেনদেন নিষ্পত্তি, নতুন আর্থিক পণ্য চালু এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগকে সিএসই স্বাগত জানায়।
তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাজেট কাঠামোর মধ্যে পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত নীতিকৌশল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
দীর্ঘদিন ধরে সিএসই যেসব সংস্কার ও উন্নয়ন প্রস্তাব দিয়ে আসছিল, এবারের বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা গেছে।
কর কাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে বর্তমানে প্রস্তাবিত কর ব্যবধান ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এটি বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হলে আরও বেশি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হবে।
এছাড়া নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে প্রথম তিন বছর করমুক্ত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবও দেন তিনি। এতে বাজারে মানসম্পন্ন শেয়ারের সরবরাহ বাড়বে এবং লেনদেনের গতি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে তার অভিমত।
প্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাতে করের বোঝা কমানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশি কারিগরি সেবার বিপরীতে ২০ শতাংশ উৎসে কর এবং সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি উৎসে কর ১০ শতাংশ এবং ভ্যাট ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেন।
সিএসইর এমডি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের চলমান সংস্কার কার্যক্রম, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং বাজার আধুনিকায়নের উদ্যোগ দেশের পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অবস্থানে নিয়ে যাবে।
ভোরের আকাশ/ র.ই