প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে শেষ হলো আইকনেক্ট আন্তর্জাতিক সম্মেলন

গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের নানা ক্ষেত্রের দেশি-বিদেশি গবেষক, শিক্ষক, প্রকৌশলী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী আইকনেক্ট ২০২৬ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে ২৩টি দেশের ১৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের কাছ থেকে মোট ৯১১টি গবেষণাপত্র জমা পড়ে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পর্যালোচনার পর এর মধ্যে ১৪২টি গবেষণাপত্র উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত হয়। সম্মেলনের দুই দিনে এসব গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করেন গবেষকেরা।
নির্বাচিত গবেষণাপত্রগুলোতে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, অটোমেশন, যোগাযোগ ও নেটওয়ার্কিং, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তির অন্যান্য সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আক্তার হোসেন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের বেঙ্গালুরুর প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিবাপেরুমাল সম্পথ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইকনেক্ট ২০২৬-এর টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. শেখ ফাত্তাহ, সম্মেলনের জেনারেল চেয়ার ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল অনুষদের সহযোগী ডিন প্রফেসর ড. শহীদ মো. আসিফ ইকবাল, আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা ও বুয়েটের অধ্যাপক প্রফেসর ড. সেলিয়া শাহনাজ, আইইইই বাংলাদেশ শাখার চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. ইমামুল হাসান ভূঁইয়া এবং আইকনেক্ট ২০২৬ আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান টুটুন চন্দ্র মল্লিক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো. আক্তার হোসেন খান বলেন, প্রযুক্তির বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, স্বয়ংক্রিয়তা, উন্নত কম্পিউটিং, সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি, ইন্টারনেট অব থিংস, সাইবার নিরাপত্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো ক্ষেত্রগুলোতে প্রতিনিয়ত নতুন পরিবর্তন ও উদ্ভাবন ঘটছে। এ বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা কেবল প্রচলিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। নতুন জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং সেগুলো বাস্তব জীবনে প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের গুরুত্ব কেবল গবেষণাপত্র উপস্থাপনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এ ধরনের আয়োজন গবেষকদের মধ্যে মতবিনিময়, নতুন ধারণার আদান-প্রদান, পেশাগত যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যৌথ গবেষণার সুযোগ তৈরি করে। তার মতে, আইকনেক্ট ২০২৬ ভবিষ্যতে দেশি-বিদেশি গবেষকদের মধ্যে আরও সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে ভূমিকা রাখবে।
উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অ্যাক্রেডিটেশনকে শুধু একটি সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলে হবে না। এটি শিক্ষার মান, গবেষণা, শিক্ষার্থীদের অর্জিত দক্ষতা ও শেখার ফলাফল এবং শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সমাজের চাহিদার সামঞ্জস্য মূল্যায়নের পাশাপাশি ধারাবাহিক উন্নয়নের একটি প্রক্রিয়া। এ সময় তিনি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির পাঁচটি প্রোগ্রামের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক এবং অভ্যন্তরীণ মান নিশ্চয়তা কমিটিকে অভিনন্দন জানান।
দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে আরও কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন ও উৎপাদন খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার বাস্তব প্রয়োগ বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত, সরকার এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।
তরুণ গবেষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গবেষণায় ব্যর্থতা একটি স্বাভাবিক বিষয়। কোনো গবেষণাপত্র প্রত্যাখ্যাত হওয়া কিংবা প্রত্যাশিত ফল না পাওয়াকে গবেষণার পথের শেষ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি, নতুন পদ্ধতি অনুসরণ এবং পুনরায় কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে মানুষের জীবন ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে হলে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক গবেষণাগার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি নৈতিকতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
আইকনেক্ট ২০২৬ শেষ হলেও সম্মেলনকে ঘিরে যে যোগাযোগ, আলোচনা ও গবেষণা সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান প্রধান অতিথি।
সমাপনী অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির বলেন, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। তার মতে, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জনের পাশাপাশি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে সিএসই ও ইইই বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও আয়োজকেরা তাদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু ক্লাস নেওয়া, পরীক্ষা পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের সনদ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গবেষণা, প্রকাশনা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও এগিয়ে যেতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্মেলন শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করে।
গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, চলতি বছর শিক্ষকদের গবেষণার জন্য প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫টি গবেষণা প্রকল্পে অর্থায়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে গবেষণায় বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রকৌশল অনুষদ, বিশেষ করে ইইই ও সিএসই বিভাগের গবেষণা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে আধুনিক সরঞ্জাম, উন্নত ল্যাবরেটরি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবেষণার পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আরও বেশি গবেষণায় সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিকে দেশের মানসম্পন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যেতে অ্যাক্রেডিটেশন, গবেষণা, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা এবং বৈশ্বিক পরিসরে সম্মেলন আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির জন্য কোনো একটি বিভাগ এককভাবে কাজ করলে হবে না; সব অনুষদ ও বিভাগকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
আইকনেক্ট ২০২৬-এ নির্বাচিত ১৪২টি গবেষণাকর্ম আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, গবেষণাগুলো আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হলে তা প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির গবেষণা কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও দৃশ্যমান করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তা একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হবে।
সম্মেলন আয়োজনে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অতিথি, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অংশগ্রহণকারী এবং আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান উপাচার্য। তাঁদের সম্মিলিত সহযোগিতার কারণেই সম্মেলনটি সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে উপাচার্য জানান, ২০২৮ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী দুই বছরে আইকনেক্ট ২০২৬-এর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আরও বড় পরিসরে ও উন্নত ব্যবস্থাপনায় সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। এ কাজে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে গবেষণাপত্র উপস্থাপনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মোট ছয়টি বিভাগে এসব প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ছিল প্রকল্প প্রদর্শনী, পোস্টার উপস্থাপন, রোবট ফুটবল, থ্রি মিনিট থিসিস/গবেষণা উপস্থাপনা, প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নির্দেশনা প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসব আয়োজনে অংশ নিয়ে তাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান, গবেষণা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা তুলে ধরেন।
আইকনেক্ট ২০২৬-এর অংশ হিসেবেই শিক্ষার্থীদের জন্য আইকনক্লেভ ২০২৬ নামে একটি পৃথক প্রতিযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন করা হয়। প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ প্ল্যাটফর্মে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানা প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীতে অংশ নেন।
সম্মেলনের প্রথম গোল্ড পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সহযোগিতা করে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক। সম্মেলনের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আয়োজকদের মতে, আইকনেক্ট ২০২৬-এর মাধ্যমে দেশ ও বিদেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতবিনিময় ও যোগাযোগের একটি আন্তর্জাতিক পরিসর তৈরি হয়েছে। গবেষণাপত্র উপস্থাপনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ থাকায় সম্মেলনটি গবেষণা ও শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্ভাবনী কার্যক্রমের সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে ওঠে।
২৩টি দেশের ১৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা ৯১১টি গবেষণাপত্রের মধ্যে ১৪২টি নির্বাচিত গবেষণাপত্র উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী আইকনেক্ট ২০২৬ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।
ভোরের আকাশ/আ.র