মাদকাসক্তের ছুরিকাঘাতে দুই মৃত্যু, কুড়িগ্রামে আইনশৃঙ্খলা সভায় উদ্বেগ

কুড়িগ্রামে মাদকের বিস্তার ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা। চলতি মাসে মাদকাসক্ত ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সভায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
রোববার সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদকদ্রব্যের বিস্তার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে মাদকাসক্ত ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে সাম্প্রতিক সময়ে দুই ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনা আলোচনায় গুরুত্ব পায়। মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া ব্যক্তিদের অপরাধে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রবণতা এবং এর সামাজিক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সদস্যরা।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সভার আলোচনায় মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
সভায় বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সফি খান ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার এবং এসআরবি-১৩-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. মনিরুজ্জামান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই বিপর্যস্ত করে না, এর প্রভাব পড়ে পরিবার ও সমাজের ওপরও। মাদকের বিস্তার অপরাধপ্রবণতা বাড়িয়ে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। এ কারণে মাদক কারবারি ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
তাঁরা মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
ভোরের আকাশ/ এনউব