কুড়িয়ানা-ভিমরুলী: পেয়ারা, ভাসমান হাট ও বাংলার ঐতিহ্য

পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার কুড়িয়ানা, আটঘর ও ভিমরুলী এলাকা দেশের অন্যতম বৃহৎ পেয়ারা উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। প্রায় দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য বহনকারী এই পেয়ারা বাগানকে অনেকেই "বাংলার আপেলের রাজ্য" বলে অভিহিত করেন। বর্ষা এলেই মাইলের পর মাইলজুড়ে সবুজ পেয়ারা বাগান আর খাল-বিলে নৌকার সারি তৈরি করে মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের, যা প্রতি বছর হাজারো পর্যটককে আকর্ষণ করে।
এই অঞ্চলের পেয়ারা চাষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন স্থানীয় কৃষক সুধীর হালদার, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা পেয়ারা বাগানের পরিচর্যা ও চাষাবাদ করে এ অঞ্চলের কৃষি ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন।
নিতাই চন্দ্র মণ্ডল জনান, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে ভিমরুলীর শতবর্ষী ভাসমান হাটে এসব কৃষক নৌকাভর্তি পেয়ারা, আমড়া, লেবু, কলা, সবজিসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য নিয়ে আসেন। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে জমজমাট বেচাকেনা। খালের বুকে শত শত নৌকার সমাগম সৃষ্টি করে এক অনন্য দৃশ্য।
স্থানীয় কৃষক গৌরাঙ্গ বিশ্বাস বলেন, একসময় ন্যায্য মূল্য না পেয়ে তারা হতাশায় ভুগতেন। কিন্তু বর্তমানে পর্যটকদের আগমন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার এবং ভাসমান হাটের পরিচিতি বাড়ায় পেয়ারার চাহিদা ও দাম বেড়েছে। ফলে কৃষকেরা আগের তুলনায় ভালো দাম পাচ্ছেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিও আরও সচল হয়েছে।
বর্ষার মৌসুমে ছোট নৌকায় করে পেয়ারা বাগানের সরু জলপথে ঘুরে বেড়ানো, গাছ থেকে টাটকা পেয়ারা সংগ্রহ করা এবং ভাসমান হাটের প্রাণচঞ্চল পরিবেশ উপভোগ করতে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা এখানে ভিড় জমান।
স্থানীয়দের মতে, কুড়িয়ানা পেয়ারা বাগান ও ভিমরুলীর ভাসমান হাট শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়; এটি কৃষি, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও উজ্জ্বল উদাহরণ। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব কৃষক একসঙ্গে কাজ করে এলাকার অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন।
পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, ভ্রমণের সময় পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং প্লাস্টিক বা অন্যান্য আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে ফেলা সবার দায়িত্ব। সচেতনতাই পারে এই অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতে।
ভোরের আকাশ/এসএইচ