কুমিল্লা-৯ আসনে বিএনপির দুই প্রার্থীর সমঝোতা

কুমিল্লা-৯ আসন লাকসাম-মনোহরগঞ্জে বিএনপির একাধিক গ্রুপে বিভক্ত। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের বিএনপির অভ্যন্তরীণ দুটি গ্রুপ কর্নেল আজিম গ্রুপ ও আবুল কালাম গ্রুপের জোরালো কোন্দল চলে আসছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে কর্নেল আজিমের কন্যা সামিরা আজিম দোলা গ্রুপ ও আবুল কালাম গ্রুপ নতুন করে প্রকাশ্যে কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে।
গত ৯ নভেম্বর উপজেলার কান্দিরপাড় ইউপির ছনগাঁও এলাকায় তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা লিফলেট বিতরণ কালে বিএনপির অন্য একটি অংশ মনোনয়ন প্রত্যাশী সামিরা আজিম দোলার গাড়িবহর সহ তার উপর হামলা চালালে প্রধান দুটি গ্রুপ আবারও প্রকাশ্যে চলে আসে। বিএনপির এক পক্ষের কমিটি কমিটি খেলা তৃণমূল বিএনপির মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি, দলীয় মিডিয়াকর্মীদের অবহেলা সহ সামিরা আজিম দোলার উপর হামলায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা নড়েচড়ে উঠে।
তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিমত, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সামিরা আজিম দোলার রাজনৈতিক পরিপক্ষতা এখনো আসেনি। কিন্তু তার মরহুম পিতা ও সাবেক এমপি কর্নেল আজিমের রাজনৈতিক অবস্থান এ আসনে অনেক শক্তিশালী। কিন্তু বাস্তবতা হলো- দোলার পিতার অনুসারী অনেকেই এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। সামিরা আজিম দোলার সাথে সমঝোতা করে একক নেতৃত্ব সৃষ্টি করা এবং তৃণমূল বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করা ধানের শীষের টিকিট নেওয়া প্রার্থীর পক্ষে সহজ হবে না। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন, রাজনীতি, ব্যক্তিগত অবস্থান, জনপ্রিয়তা ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন মুখ্য বিষয়।
সূত্রটি আরও জানায়, সামিরা আজিম দোলার উপর হামলা ঘিরে আবুল কালাম ও দোলা আজিমের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা অবশ্যই ইতিবাচক হলেও অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে স্বাভাবিক সমঝোতা হয়ে যাবে তা কিন্তু বলা কঠিন। গত শুক্রবার রাতে বিএনপির চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী সামিরা আজিম দোলা ও বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আবুল কালামকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিএনপির মুখপাত্র সালাউদ্দিন আহমেদ তাদের ডাকেন। বিস্তারিত শুনে ধানের শীষকে জয়লাভে সামিরা আজিম দোলাকে নির্দেশ এবং দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে সমঝোতা করে দেন।
শনিবার সন্ধ্যায় লাকসাম উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে কেন্দ্রীয়, জেলা-উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আবারও দুই প্রার্থীর ঐক্যবদ্ধতা সমঝোতা করে দেন। উল্লেখ্য, এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী বিজিএমই পরিচালক ও কেন্দ্রীয় যুবদলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী, সাবেক সচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর
সম্পাদক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সফিকুর রহমান সফিক ছাড়াও জেলা যুবদল নেতা, এ আসনের তারুণ্যের অভিভাবক জনপ্রিয় ছাত্রনেতা সাইমুন রহমান রকি সহ একাধিক গ্রুপ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সামিরা আজিম দোলা বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার অনুরোধ করেছেন। দেশ ও দলের স্বার্থে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করে যাবো।
এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ শুক্রবার রাতে আমাদের দুইজনকে গুলশান পার্টি অফিসে ডেকেছেন। আমরা উভয়পক্ষ ধানের শীষের জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করব এবং সব ষড়যন্ত্র একসাথে মোকাবিলা করব।
উল্লেখ্য, আবুল কালাম ও দোলা আজিমের সমঝোতা দলীয় গ্রুপিং কমানোর সূচনা হতে পারে, কিন্তু মনে হচ্ছে এটা চূড়ান্ত সমাধান নয়। দলীয় নেতৃত্ব সবাই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে এবং তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন; গঠনকে ঐক্যের মধ্যে না আনতে পারে তাহলে এ আসন দলীয় প্রার্থীর জন্য বিজয়ী হওয়া কঠিন হবে। এ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে দুর্বল ভাবা ঠিক হবে না। কারণ ঘরের শত্রু বিভীষণ। ২০০৮ সালের মতো এ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরাজয় বরণ করতে হবে।
ভোরের আকাশ/মো.আ.