মানিকগঞ্জে তিন স্থানে আগুন, প্রশাসনের ধারণা নাশকতা

একই রাতে মানিকগঞ্জের তিনটি স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। জেলার শিবালয়, সাটুরিয়া ও ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা, ঘটনাগুলো নাশকতা ও ভয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ঘটানো হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
রবিবার (৯ নভেম্বর) রাতে প্রথম অগ্নিকাণ্ড ঘটে শিবালয় উপজেলার উথলী মোড়ে। পার্কিং করে রাখা মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। গাড়িটি ফাঁকা থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয়দের সহায়তায় নবগ্রাম ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রামে গ্রামীণ ব্যাংকের অফিস চত্ত্বরে রাত আড়াইটার দিকে আরেকটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ব্যাংকটির কর্মীরা ও স্থানীয়রা মিলে আগুন নেভান। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াসমিন খাতুন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সালাউদ্দিন।
একই রাতে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ অংশেও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একাংশ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ফুয়াদ রহমান খান তার ফেসবুক আইডিতে মহাসড়কে আগুন জ্বালানোর একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “অবরোধ সফল হোক, ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক। ধন্যবাদ মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ।”
ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী রাতের আঁধারে মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, আগামী ১৩ নভেম্বর ঘোষিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতে পারে।
বিএনপির দাবি, “রাতের অন্ধকারে পরিকল্পিতভাবে তিনটি জায়গায় আগুন লাগানো হয়েছে। এটি নিছক কাকতালীয় নয়।”
জেলার গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সব ঘটনার পেছনে একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের সক্রিয় ভূমিকা পাওয়া যাচ্ছে। তদন্তে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।”
পুলিশ সুপার ইয়াসমিন খাতুন বলেন, “তিনটি ঘটনারই তদন্ত চলছে। আগামী ১৩ নভেম্বর ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো সেই রাজনৈতিক অস্থিরতারই অংশ হতে পারে।”
ভোরের আকাশ/জাআ