৭১ ও ২৪-এর পরাজিত শক্তি একই পথে হাঁটছে: মীর হেলাল

১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি এবং ২০২৪ সালের পরাজিত শক্তির বক্তব্য ও অবস্থানে মিল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হেলাল। তিনি বলেন, দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়োজিত বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মীর হেলাল বলেন, পরাজিত শক্তিগুলো জানে, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে তাদের পক্ষে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা সম্ভব নয়। এ কারণেই তারা বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। জনগণ তাদের পাশে নেই এ বাস্তবতা তারা বুঝতে পেরেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খুলনার পর ঢাকায় তাঁর কর্মসূচিতেও লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে। এই জনসমর্থনের পেছনে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। তাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যে চর্চা হচ্ছে, তার সূচনা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। তিনিই দেশে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেন।
দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, সরকারের গঠনমূলক কাজের সমালোচনা করলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে এবং সমালোচকদের বক্তব্য শোনা হবে। কিন্তু রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ ধরনের অপতৎপরতা প্রতিরোধে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনই যথেষ্ট সক্ষম।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর যারা রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, আজকের কর্মসূচিতেও তাঁদের উপস্থিতি রয়েছে। রাজপথের আন্দোলন থেকেই তাঁরা সংসদে পৌঁছেছেন। প্রয়োজন হলে সংসদ থেকে আবার রাজপথে ফিরতেও তাঁদের সময় লাগবে না। কারণ জনগণ ও রাজপথই বিএনপির মূল শক্তি।
সম্প্রতি কিছু ব্যক্তির ক্ষমতার প্রভাব প্রদর্শনের প্রবণতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে মীর হেলাল বলেন, গুপ্ত ও দোসরদের সঙ্গে নিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিএনপি ১৭ বছর ধরে নিজস্ব পরিচয়ে রাজপথে থেকে ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। যারা দেশবিরোধী শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করবে, তাদের বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা দিল্লীও চাই না পিন্ডিও চাই না আমরা চাই সবার আগে বাংলাদেশ।’
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন।
এতে আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, আজিজুল হক চেয়ারম্যান, মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, আসহাব উদ্দীন চৌধুরী, রেজাউল করিম নেছার, সাইফুদ্দীন সালাম মিঠু, জেলা বিএনপির সদস্য ফৌজুল কবির ফজলু এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা।
সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলালের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে একটি র্যালি বের করা হয়। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আটটি উপজেলার বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিট থেকে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী এতে অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না করলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিতে পারত। তাঁর নেতৃত্বেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে আসে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
ভোরের আকাশ/ এনউব