মিডিয়ার সমালোচনার জবাব দিলেন মাধবপুরের এসিল্যান্ড মৈত্রী রায়

ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ছবি ও ক্যাপশন পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে কড়া জবাব দিয়েছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৈত্রী রায়। আরটিভি সহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হওয়ার প্রেক্ষিতে নিজের ভেরিফাইড আইডি থেকে তিনি এই স্পষ্টীকরণ দেন।
মৈত্রী রায় জানান, গত ৪ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মহোদয়ের মাধবপুর উপজেলায় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন কর্মসূচি ছিল। সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে তিনি তখন প্রটোকলের দায়িত্বে ছিলেন। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় স্কুল দুটি পরিদর্শন এবং দুপুরের খাবার গ্রহণের পর সেখান থেকেই বিদায় নেন। তিনি কোনো চা বাগান পরিদর্শনে যাননি এবং চা বাগানে তাকে কোনো প্রটোকল দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে বিদায় দিয়ে অফিসে ফেরার সময় চা বাগানের ল্যান্ডস্কেপ দেখে তার মনে হয় সেখানে দাঁড়িয়ে কিছু ছবি তোলা যায়। সরকারি চাকরিতে ব্যক্তিগত সময় তেমন পাওয়া যায় না বলেই কাজের মধ্য থেকে ২-৪ মিনিট নিজের জন্য বের করেছিলেন তিনি। যেহেতু এটি তার ব্যক্তিগত আইডি, তাই তিনি ছবিগুলোতে "প্রটোকলের ফাঁকে সেল্ফ প্রটোকল" নামক একটি রূপক (হাইপোথেটিক্যাল) ক্যাপশন ব্যবহার করেছিলেন।
ছবি তোলা ও তা শেয়ার করা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জবাবে তিনি সুনির্দিষ্ট দুটি পয়েন্ট উল্লেখ করে কড়া জবাব দেন: ১. সরকারি চাকরিতে নিজের ছবি তোলা যাবে না এবং সেই ছবি ব্যক্তিগত আইডি থেকে শেয়ার করা যাবে না—এমন কোনো আইন নেই।
২. সরকারি কর্মচারী হিসেবে নিজের উপজেলার সুন্দর জায়গা প্রমোট করাটাও তার দায়িত্বের অংশ। কারণ মাধবপুর, চুনারুঘাট বা বাহুবলে ছবি তুলে অনেকেই ক্যাপশনে 'শ্রীমঙ্গল' লেখেন, অথচ তারা জানেনও না যে এটি হবিগঞ্জ জেলা।
সর্বশেষে তিনি হতাশা প্রকাশ করে লেখেন, প্রথম সারির একটি গণমাধ্যম কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত ছবি পোস্ট করেছে এবং একটি বিতর্কিত ক্যাপশন ব্যবহার করেছে।
ভোরের আকাশ/ এনউব