নিজ ঘর হারিয়ে মেয়ের বাসায় দিন কাটছে পিতা-মাতার

নাটোরের গুরুদাসপুরে পাঁচ বিঘা জমি মেয়ের নামে লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বাবা-মাকে বসতবাড়ি থেকে মারধর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। বর্তমানে নুরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী শারমিন মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁদের মেয়ে নুপুর খাতুন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার ঝাউপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন নুপুর খাতুন। একই সঙ্গে বাবার লিখে দেওয়া পাঁচ বিঘা জমি দখলমুক্ত, হয়রানি ও মারধরের অভিযোগের তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানান তিনি।
নুপুরের অভিযোগ, তাঁর বাবা নুরুল ইসলামের একমাত্র সন্তান তিনি। কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নুরুল ইসলাম তাঁর নামে পাঁচ বিঘা জমি লিখে দেন। এরপর থেকেই তাঁর দুই চাচা শহিদুল ইসলাম ওরফে জামরুল ও জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বাবার বিরোধ শুরু হয়।
নুপুর বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি প্রায় দুই বছর বয়সী ছেলে মুত্তাছিরকে নিয়ে বাবার বাড়িতে যান। এ সময় তাঁর দুই চাচা তাঁদের ওপর চড়াও হয়ে নুপুর, তাঁর ছেলে মুত্তাছির, বাবা নুরুল ইসলাম ও মা শারমিনকে মারধর করেন। পরে তাঁদের বসতবাড়ি থেকে বের করে দিয়ে জমি দখল করে ভোগ করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নুপুরের দাবি, ঘটনার পর প্রায় দেড় বছর ধরে তাঁর বাবা-মা তাঁর শ্বশুরবাড়ি ঝাউপাড়ায় অবস্থান করছেন। দখল করা জমি ফেরত চাওয়ায় তাঁর চাচারা মোবাইল ফোনে নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা হয়নি। পরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। প্রশাসনের কাছে জমি দখলমুক্ত করার পাশাপাশি তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
নুপুরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পিপলা মৌজায় তাঁদের বাড়ি ও ধানি জমি মিলিয়ে ১২২৬ নম্বর খতিয়ানের ৩৩২, ৫৭৪, ২৮৪, ১২১৬, ৪৪৪, ৮৩১, ৩৫১, ৩৮৬, ১২২৪, ১২৩৮, ১২১৪, ৩৮৭, ৩৭২, ২১৫ ও ৬২৭ নম্বর দাগে মোট ২৫৮ দশমিক ২৯ শতাংশ জমি রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলাম ওরফে জামরুল ও জাহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি। ফলে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/জেআ