নড়াইলে শিশু ধর্ষণ-হত্যার ঘটনায় উত্তেজনা, দ্রুত বিচার চায় জনতা

নড়াইল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের পাঁচ বছরের শিশু **জান্নাতুল মাওয়া (জান্নাতি)**কে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত **রবিউল সিকদার (৩০)**কে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু।
একই দিন দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তের কাছে কোনো মোবাইল ফোন না থাকায় তাকে শনাক্ত করতে কিছুটা সময় লাগলেও তদন্তে কোনো গাফিলতি করা হয়নি। এ সময় নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূর-ই-আলম সিদ্দিকীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা বৃষ্টির মধ্যেও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে নড়াইল–মাইজপাড়া–মাগুরা সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ছাত্র-জনতা।
পরে নড়াইল–লোহাগড়া–ঢাকা মহাসড়কের সদর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। বিকেলে নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এ সময় পুলিশ সুপার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি.এম. রাহসিন কবিরসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে। অভিযোগ অনুযায়ী, রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় রাজমিস্ত্রি রবিউল সিকদার প্রতিবেশী শিশু জান্নাতিকে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রবিউলের ঘরের মেঝে থেকে কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পালিয়ে ছিলেন।
নিহত জান্নাতি দত্তপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নড়াইল জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আসিফ আকবর জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শিশুটির শরীরে আঘাতের একাধিক চিহ্ন পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
ভোরের আকাশ/জেআ