নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ ডিআইজির

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, সামাজিক অপরাধ দমন এবং জনসচেতনতা বাড়াতে কক্সবাজারে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাল্যবিবাহ, মাদক ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে জেলা পুলিশের উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন প্রতিনিধি ও সুধীজন অংশ নেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধসহ সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে বাল্যবিবাহ, মাদক ও কিশোর অপরাধসহ নানা অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আগের তুলনায় অপরাধীদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়েছে। অপরাধপ্রবণতা কমিয়ে আনতে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে কিশোর গ্যাং দমনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিশোরদের সুরক্ষা ও সঠিক পথে পরিচালিত করতে না পারলে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে বাইরে অবস্থান না করার বিষয়ে সতর্ক করে ডিআইজি বলেন, কোনো শিক্ষার্থী সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা করলে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র বা যথাযথ তথ্য দিতে না পারলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় মাদক নির্মূলে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান। সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. অহিদুর রহমান পিপিএম, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার শহর বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল হুদা, কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুবেদার মেজর (অব.) আব্দুল মাবুদ, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাবেক কাউন্সিলর নাছিমা আক্তার বকুলসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
সমাবেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদক ও বাল্যবিবাহ বন্ধ এবং কিশোর অপরাধ দমনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা।
ভোরের আকাশ/সু.পা