শজিমেকে কার্ডিয়াক সার্জারিতে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ: ভাস্কুলার সার্জারি চালুর ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে কার্ডিয়াক সার্জারি চালুর জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে ভাস্কুলার সার্জারি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে কলেজ মিলনায়তনে এসজেডএমসি ডে-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও ৩৭টি সহ মোট ৫০টি ডায়ালাইসিস মেশিন এবং মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ১০টি নতুন ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে। এর ফলে বগুড়ায় মোট ৬০টি মেশিনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১২০ জন রোগী ডায়ালাইসিস সেবা নিতে পারবেন। এছাড়া, শজিমেক হাসপাতালে এমবিবিএস কোর্সে আরও ২০টি আসন বাড়ানোরও ঘোষণা দেন তিনি।
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "হাসপাতালের করিডোর ও চত্বর অপরিচ্ছন্ন রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।" পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে আগামী রবিবার জেলা প্রশাসক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সাথে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সব আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় চিকিৎসকদের সেবার মানসিকতা ও নৈতিকতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকরা রোগীদের কাছে আস্থার প্রতীক, তাই সেই মর্যাদা বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের ওপর থেকে অ্যাক্রিডিটেশন ফি নেওয়ার বিষয়টি অযৌক্তিক উল্লেখ করে তা বাতিলের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার আশ্বাস দেন এবং ছাত্রছাত্রীদের নতুন হোস্টেল ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে পূর্ণ সহায়তার কথা জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিসিপিএস-এর সভাপতি ও শজিমেক-এর সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর বগুড়া অঞ্চলের ঐতিহাসিক বঞ্চনা, চিকিৎসা খাতের উন্নয়ন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তাঁর পরিবারের অবদান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে বগুড়া প্রশাসনিক ও চিকিৎসাসেবায় উপেক্ষিত ছিল। পরবর্তী সময়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়।
২০০১ সালে তৎকালীন সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পের পেছনের ইতিহাস বর্ণনা করে অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর বলেন, ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দিকনির্দেশনায় এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ উদ্যোগে এই হাসপাতালের স্থান নির্ধারণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। তিনি কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই তৎকালীন সরকারের এই বৃহত্তম স্বাস্থ্য প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৬ সালের ৩১শে আগস্ট চিকিৎসাসেবা চালুর মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন। তবে এর বিনিময়ে জিয়া পরিবারকে রাজনৈতিক নিপীড়ন, এক এগারোর সরকারের সময় বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস, তারেক রহমানের ওপর নির্যাতন এবং আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর মতো চরম মূল্য দিতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিশেষে বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য খাতের রূপকল্প ও এক দফা কর্মসূচির প্রশংসা করে ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর বলেন, ২০৪০ সালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে সামনে রেখে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, ১ লক্ষ গ্রামীণ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ১৫১ শজ্জার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং প্রতিটি অঞ্চলে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
এসজেডএমসি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের আহবায়ক ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো: ওয়াদুদুল হক তরফদার, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য মো: রেজাউল করিম বাদশা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোছাঃ সুরাইয়া জেরিন রনি এবং বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন।
এর আগে সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ র্যালি, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা এবং ডে কেস সার্জারির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব, কৃতি সাবেক শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, চিকিৎসা কার্ড উদ্বোধন এবং রাতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
ভোরের আকাশ/সু.পা