রাজাপুরে অসুস্থ মা-বাবাকে নিয়ে মানবেতর জীবন বিধবা রাজিয়ার

ঝালকাঠির রাজাপুরে অসুস্থ ও শয্যাশায়ী মা-বাবাকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বিধবা রাজিয়া বেগম। ৮৮ বছরের বাবা মুজাফফর হাওলাদার ও ৭৫ বছরের মা নাজিমুল বেগম—দুজনই দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। অর্থের অভাবে প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ তাঁদের নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসা। ঘরে খাবারও থাকে না সবসময়। ফলে দুই সন্তান ও অসুস্থ মা-বাবাকে নিয়ে কখনো অনাহারে, কখনো অর্ধাহারে দিন কাটছে রাজিয়ার পরিবারের।
রাজাপুর উপজেলার নিজ গালুয়া গ্রামের বাসিন্দা মুজাফফর হাওলাদার (৮৮) প্রায় সাড়ে চার বছর আগে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এতে তাঁর বাম হাত ও পা অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকেই বিছানাই তাঁর একমাত্র ঠিকানা। বয়সের ভার ও অসুস্থতার কারণে দিন দিন তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও অর্থের অভাবে প্রায় দুই বছর ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা নিতে পারছেন না তিনি।
একই ঘরে শয্যাশায়ী তাঁর স্ত্রী নাজিমুল বেগম (৭৫)। প্রায় এক বছর ধরে অসুস্থ তিনি। তাঁর ডান হাত ও পা অবশ হয়ে গেছে। কথা বলতে পারেন না। নিজে উঠে বসা কিংবা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ারও সক্ষমতা নেই। সার্বক্ষণিক অন্যের সহযোগিতা প্রয়োজন তাঁর।
বৃদ্ধ মা-বাবার এমন অসহায় অবস্থা দেখে তাঁদের নিজের সংসারে নিয়ে আসেন বড় মেয়ে রাজিয়া বেগম। প্রায় ছয় বছর আগে তাঁর স্বামী আব্দুস সত্তার মারা যান। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। এর মধ্যেই অসুস্থ মা-বাবার দায়িত্বও এসে পড়ে তাঁর কাঁধে।
এখন একই ঘরে দুই অসুস্থ বৃদ্ধ মা-বাবা, দুই সন্তান ও বিধবা রাজিয়া। নেই পর্যাপ্ত খাবার, নেই চিকিৎসার অর্থ। মা-বাবার চিকিৎসার জন্য বরিশাল ও ঝালকাঠিতে দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারটি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে দুই শয্যাশায়ী বৃদ্ধের ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা রাজিয়ার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ফলে কখনো একবেলা, কখনো অর্ধাহারে দিন কাটছে পুরো পরিবারের। রাজিয়ার কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, মা-বাবার অসুস্থতা চোখের সামনে দেখেও তাঁদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না। ওষুধের প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে দিনের পর দিন তা ছাড়াই থাকতে হচ্ছে তাঁদের।
রাজিয়া বেগম বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। মা-বাবা দুজনই অসুস্থ। তাঁদের নিজের কাছে এনে সেবা করছি। কিন্তু খাবার জোগাড় করতেই কষ্ট হয়, ওষুধ কিনব কীভাবে? অনেক সময় না খেয়েও থাকতে হয়। মানুষের সহযোগিতা পেলে মা-বাবার চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করতে পারতাম।’
অসহায় রাজিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও হৃদয়বান মানুষের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, সামান্য সহযোগিতাও এই অসহায় পরিবারের জন্য বেঁচে থাকার বড় অবলম্বন হয়ে উঠতে পারে।
সহযোগিতার জন্য বিকাশ (ব্যক্তিগত): ০১৭৫৬৬৮২৬৯১।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হোসেন জানান, চিকিৎসা সহায়তার জন্য আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা