নওগাঁয় ৪০ বছরের রাস্তা দখলের অভিযোগ

নওগাঁ সদর উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের চকআবরশ গ্রামে প্রায় ৪০ বছর ধরে ১৫টি পরিবারের চলাচলের রাস্তা দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি রাতের আঁধারে ওই রাস্তার অংশে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় মো. বেলাল হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যক্তি ভীমপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে চকআবরশ গ্রামের আরএস খতিয়ান নম্বর ৪৯-এর ১২৬, ১২১ ও ১২৭ নম্বর দাগের প্রায় ২০ শতক জমি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারীর দাবি, ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ-বণ্টনের পর তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন।
বেলাল হোসেনের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের মো. ফরিদসহ কয়েকজন লোক দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা ও জমি দখলের চেষ্টা করছেন । পরে রাতের আঁধারে রাস্তার একটি অংশে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। এতে স্থানীয় বেশ কয়েকটি পরিবারের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাস্তাটি দিয়ে তারা প্রায় ৪০ বছর ধরে চলাচল করে আসছেন। হঠাৎ করে প্রাচীর নির্মাণের কারণে যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত প্রাচীরটি অপসারণ করে রাস্তাটি আগের মতো চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তারা।
তবে রাস্তা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মো. ফরিদ বলেন, তারা তাদের নিজস্ব জায়গাতেই ইটের প্রাচীর নির্মাণ করছেন। রাস্তা দখলের অভিযোগ সঠিক নয়।
এদিকে, জমির মালিকানা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের প্রকৃত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান, দাগ, নকশা ও জমির সীমানা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের চলাচলের পথটি সরকারি নাকি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে গেছে, সেটিও সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভীমপুর পুলিশ তদন্ত ফাঁড়ির তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। তবে শুনেছি, চকআবরশ গ্রামের জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলা আদালতে রয়েছে। যাতায়াতের রাস্তার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।”
নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোঃ নূরুল আমিন বলেন, “এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভোরের আকাশ/ এনউব