"জেলা পরিষদের বেদখল সম্পত্তি পর্যায়ক্রমে উদ্ধারের উদ্যোগ"

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে থাকা জায়গা ও সম্পত্তি শনাক্ত করে ধাপে ধাপে তা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম।
তিনি বলেন, জেলা পরিষদের মালিকানাধীন জমি বা সম্পত্তি কোনো ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর নিজস্ব সম্পদ নয়। এসব সম্পত্তি জনগণের সম্পদ। তাই সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে রাখার সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সীতাকুণ্ড উপজেলায় জেলা পরিষদের বাস্তবায়িত কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনের সময় প্রশাসক মুরাদপুর সরদারবাড়ির মসজিদ সড়কের আরসিসি উন্নয়ন, ছোটদারগার হাট কলেজ রোড থেকে রমজান আলী সড়কের মধ্যবর্তী সংযোগ সড়ক আরসিসি দ্বারা উন্নয়ন এবং নাপিতছড়া সড়কের আরসিসি ও গাইড ওয়াল নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজ ঘুরে দেখেন।
মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, জেলা পরিষদের কোন এলাকায় কতটুকু জমি দখল হয়ে আছে, কারা এসব জায়গা ব্যবহার করছে এবং তা কীভাবে আইনানুগভাবে উদ্ধার করা সম্ভব—এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু পুরোনো দখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধার করলেই হবে না, ভবিষ্যতে জেলা পরিষদের কোনো জমি যাতে নতুন করে বেদখল না হয়, সেজন্য নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। এজন্য সম্পত্তির তথ্য সংগ্রহ, সঠিক সীমানা নির্ধারণ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধার করা সম্পত্তি পরবর্তী সময়ে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নেওয়া হবে।
জেলা পরিষদের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসক বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর পাশাপাশি কাজের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামো নির্মাণকে বিবেচনায় না এনে এর প্রয়োজনীয়তা, স্থায়িত্ব এবং স্থানীয় মানুষের উপকারের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।
তিনি বলেন, জেলা পরিষদের আওতাধীন সড়ক, কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক স্থাপনার উন্নয়নকাজে মান বজায় রাখতে নিয়মিত তদারকি করা হবে। কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রকৃত চাহিদা যাচাই করা হবে এবং কাজ চলাকালীন অগ্রগতি ও নির্মাণমান পর্যবেক্ষণ করা হবে।
স্বল্পমেয়াদি উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি আগামী কয়েক বছরের জন্য সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের কথাও জানান তিনি। শামীম বলেন, জেলার প্রত্যন্ত এবং তুলনামূলকভাবে উন্নয়নবঞ্চিত এলাকাগুলোকে পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জেলা পরিষদের প্রতিটি প্রকল্প যেন দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষের উপকারে আসে, সে লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এ সময় চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম, ভূমির দায়িত্বে থাকা উচ্চমান সহকারী আনোয়ার হোসেনসহ জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভোরের আকাশ/এসএইচ