শিরোনাম
ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম নয়, একটি ভাইরাস: জামায়াত আমিরগণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না দেশের মানুষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীমক্কেলের টাকার বিবেচনায় নয়, আইনজীবী হিসেবে আদালতে দাঁড়ানোর আহ্বান আইনমন্ত্রীরদ্বিতীয় দিনে ৩ জাহাজে সেন্টমার্টিন যাচ্ছেন ১৫৫৪ পর্যটকঅধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আজিমপুর সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভসংসদ ভবন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধজামিনে বাড়ি ফেরার পথে ফের গ্রেপ্তার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মামাতো ভাইফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ৪৪৮ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম নয়, একটি ভাইরাস: জামায়াত আমিরগণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেবে না দেশের মানুষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীমক্কেলের টাকার বিবেচনায় নয়, আইনজীবী হিসেবে আদালতে দাঁড়ানোর আহ্বান আইনমন্ত্রীরদ্বিতীয় দিনে ৩ জাহাজে সেন্টমার্টিন যাচ্ছেন ১৫৫৪ পর্যটকঅধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আজিমপুর সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভসংসদ ভবন এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধজামিনে বাড়ি ফেরার পথে ফের গ্রেপ্তার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মামাতো ভাইফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ৪৪৮

জামালপুরে ভাঙ্গা সেতুর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে ১৫ গ্রামের মানুষ

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৬ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোরের আকাশ
ভোরের আকাশ

জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নে ছয় বছর ধরে ১৫টি গ্রামের ২৭ হাজার মানুষ ভাঙ্গা সেতুর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে জেলার মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের বারেকের মোড় থেকে পুগলী পাড় আলাই নদীর ওপর প্রায় ৫০ মিটার এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এটা খালেক মেম্বারের সেতু নামে পরিচিত। এক সময় কুলিয়া ইউনিয়নের পচাবহলা, সাদিপাটি, পুগলী, তেঘরিয়াসহ আশপাশের প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র সেতু ছিল।

সেতুটি প্রায় ছয় বছর আগে পূর্ব পাশের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার পর থেকে বদলে গেছে ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে দীর্ঘ দিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এই ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের প্রায় ২৭ হাজার মানুষ।

সেতুটির বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে ও মাটিতে দেবে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও তৈরি হয়েছে বড় ফাক, কোথাও ধসে পড়েছে সেতুর অংশ বিশেষ। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে সেতুর ওপর তিনটি গাছের গুড়ি ফেলে রেখেছেন।

সেই গাছের গুড়ির ওপর পা রেখে ভারসাম্য বজায় রেখে নদী পার হচ্ছে শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। এতে সব চেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু, বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ মানুষরা। ঝুকিপূর্ণ এ সেতুটি পারাপারের সময় সামান্য অসতর্কতা কিংবা পা পিছলে নদীতে পড়ে গিয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটার শস্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর কয়েক দফায় নিজেদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে মেরামতের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু স্থায়ী ভাবে কোন সংস্কারের ব্যবস্থা না করায় কিছু দিন পর পরই আবার নষ্ট হয়ে যায় মেরামতের অংশ। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিস্ট দপ্তরের কাছে জানালেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

এই সেতু দিয়ে পারাপারে কৃষকদেরও পড়তে হচ্ছে নানা সমস্যায়। কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাত করতে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার পর সব চেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে জরুরি চিকিৎসা সেবা। কোনো রোগী অসুস্থ হলে কিংবা অন্তঃসত্বা নারীকে হাসপাতালে নিতে হলে স্বজনদের পড়তে হয় বিপাকে। গাছের ওপর দিয়ে রোগী পারাপার করা যেমন ঝুকিপূর্ণ, তেমনি জরুরি মুহূর্তে সময়মতো চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌছানো নিয়েও তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তি দুর করতে সরকার স্থায়ী সমাধান গ্রহণ করবে এমনটাই দাবি স্থানীয়দের।  

পচাবহলা কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)  মাহবুব আলম বলেন, আমাদের মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত এ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে আছে এটি দুঃখজনক। এ সেতুটির কারণে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রসূতি রোগীরা সেবা নিতে এসে চরম বিপাকে পড়ছে। ছোট ছোট বাচ্চারা এ ভাঙ্গা সেতুর ওপর দিয়ে স্কুলে যায়। যে কোন সময় বাচ্চারা সেতুর ওপর থেকে পড়ে যেতে পারে। আমরা চাই দ্রæত সেতুটির স্থায়ী সমাধান হোক।

আরও পড়ুন

নানা আয়োজনে আইডিইবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের উদ্যোগ

স্থানীয় তৌহিদুল নামের  এক বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এ দুর্ভোগের মধ্যে আছি। আমরা নিজেদের অর্থায়নে সেতুটি মেরামতের চেষ্টা করলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। আমাদের দাবি, সাময়িক মেরামত নয়, দ্রæত এটির স্থায়ী সমাধাণ করতে হবে। তাহলে আমাদের দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।

এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, আমি সেতুর বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভোরের আকাশ/ এনউব

শেয়ার করুন: