দ্বিতীয় দিনে ৩ জাহাজে সেন্টমার্টিন যাচ্ছেন ১৫৫৪ পর্যটক

অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে দীর্ঘ ১০ মাস বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দ্বিতীয় দিনে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে এমভি বারো আউলিয়ার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে আরও ২টি জাহাজ। ফলে জাহাজ ৩টিতে করে মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক সেন্টমার্টিন যাচ্ছেন।
আজ শুক্রবার সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ।
আর দ্বিতীয় দিনের মতো রওনা হয়েছে এমভি বারো আউলিয়া। সকালে জাহাজ তিনটিতে মোট এক হাজার ৬১২ জন পর্যটক সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হন। দুপুরের মধ্যেই দ্বীপে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাদের।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে যাত্রা করা এমভি বার আউলিয়া রাতেই কক্সবাজার ফিরে আসে।
এমভি বারো আউলিয়ায় ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলীতে ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফে ৭১৬ জন যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে।
কক্সবাজার পর্যটন সেলের ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, যথাযথ নিয়ম মেনে কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই দ্বিতীয় দিনে তিনটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও নজরদারি রয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এসময় দ্বীপে ভ্রমণের পাশাপাশি প্রতিদিন সাড়ে ৩ হাজার পর্যটকের রাতযাপনের সুযোগ রয়েছে। দ্বীপে প্রবেশের জন্য প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে।
এ ছাড়া ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দ্বীপে বেশ কিছু বিধিনিষেধও বহাল রয়েছে। রাতে সৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচা এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়-এমন কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দীর্ঘ অনিশ্চয়তা কাটিয়ে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিনে পর্যটন মৌসুম ঘিরে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
পর্যটকের আগমন বাড়লে দ্বীপের হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন ব্যবসায় গতি ফিরবে। একই সঙ্গে পর্যটননির্ভর দ্বীপবাসীর কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ বাড়বে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে দ্বীপের মানুষের মুখেও হাসি ফুটবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
ভোরের আকাশ/ইউএম