শিরোনাম
ঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকবিদেশি সহায়তা নয়, বাংলাদেশ এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অগ্রগতির ২৩৯ বছর, গর্বিত ময়মনসিংহ

মীর বাবুল, ময়মনসিংহ

প্রকাশ : ২ মে ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক গৌরবোজ্জ্বল নাম ময়মনসিংহ। ১৭৮৭ সালের ১ মে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিতকরণ ও স্থানীয় বিদ্রোহ দমনের লক্ষ্যে অঞ্চলটিকে জেলা হিসেবে ঘোষণা করে। 

সেই থেকে শুরু—আজ ২৩৯ বছরের দীর্ঘ পথচলা পেরিয়ে এক সময়ের উপমহাদেশের বৃহত্তম এই জেলা পরিণত হয়েছে একটি সমৃদ্ধ বিভাগে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও উন্নয়নের নানা দিক নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

উত্তরে ভারতের মেঘালয়, দক্ষিণে গাজীপুর, পূর্বে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ এবং পশ্চিমে শেরপুর, জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলা বেষ্টিত ময়মনসিংহ প্রকৃতি ও জীবনের বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। নদী, হাওর, বনভূমি ও গ্রামীণ জীবনের অপূর্ব মেলবন্ধন এই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য।

‘হাওর, জঙ্গল, মইষের শিং—এ নিয়ে ময়মনসিং’—প্রচলিত এই প্রবাদই এর জীবনচিত্রকে জীবন্তভাবে তুলে ধরে।ময়মনসিংহ নামের উৎপত্তি নিয়ে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক সূত্র। ধারণা করা হয়, মোঘল আমলের সাধক মোমেন শাহ-এর নামানুসারে ‘মোমেনশাহী’ থেকে ‘ময়মনসিংহ’ নামের বিবর্তন ঘটে।

অন্যদিকে সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁর পুত্র নাসির উদ্দিন নসরত শাহ-এর নামে ‘নাসিরাবাদ’ নামে একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে জেলা শহরের ভিত্তি হিসেবে পরিচিতি পায়।প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করতে প্রথমে খাগডহর এলাকায় কাচারি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে তা ব্যাহত হয়।

পরবর্তীতে ১৭৯১ সালে সেহড়া মৌজায় ‘নাসিরাবাদ’ নামে জেলা শহরের গোড়াপত্তন ঘটে।

একটি ডাক বিভ্রাটের ঘটনার জেরে নাসিরাবাদ রেলস্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ‘ময়মনসিংহ’ রাখা হয় এবং ১৯০৫ সালে পৌরসভার নামও একইভাবে পরিবর্তিত হয়—যা আজকের ময়মনসিংহ শহরের পরিচয় বহন করছে। সময়ের প্রয়োজন ও প্রশাসনিক সুবিধার্থে বৃহৎ ময়মনসিংহকে ভাগ করে গড়ে তোলা হয় নতুন নতুন মহকুমা ও জেলা।

১৮৪৫ সালে জামালপুর, ১৮৬০ সালে কিশোরগঞ্জ, ১৮৬৯ সালে টাঙ্গাইল এবং ১৮৮২ সালে নেত্রকোনা মহকুমা গঠিত হয়। পরবর্তীতে এসব মহকুমাই পূর্ণাঙ্গ জেলায় রূপ নেয়।

সবশেষে ২০১৫ সালে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা নিয়ে গঠিত হয় দেশের অষ্টম বিভাগ—ময়মনসিংহ বিভাগ।শিক্ষা ও নাগরিক উন্নয়নে ময়মনসিংহ বরাবরই অগ্রগামী।

১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত নাসিরাবাদ মিউনিসিপ্যালিটি ছিল বাংলা প্রেসিডেন্সির প্রথম এবং উপমহাদেশের দ্বিতীয় পৌরসভা।

১৮৮৬ সালে চালু হওয়া ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে ১৮৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ জিলা স্কুল এখনও সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও আনন্দমোহন কলেজসহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই অঞ্চলের শিক্ষার মানকে সমৃদ্ধ করছে। 

ময়মনসিংহ কেবল প্রশাসনিক বা শিক্ষার কেন্দ্রই নয় এটি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ ভাণ্ডার।

মুক্তাগাছা ও গৌরীপুরের রাজবাড়ি, শশীলজ, আঠারোবাড়ী জমিদার বাড়ি এবং রাজ রাজেশ্বরী ওয়াটার ওয়ার্কস আজও অতীতের ঐশ্বর্য ও স্থাপত্যকলার সাক্ষ্য বহন করছে।

বাংলার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ময়মনসিংহের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য ও গৌরবময়। 

২৩৯ বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের পথ পেরিয়ে আজকের ময়মনসিংহ এক সম্ভাবনাময় উন্নয়নশীল অঞ্চল। কৃষি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ধারাবাহিক অগ্রগতি এই জনপদকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

কাউখালীতে ফেরি ঘাটের ভাঙ্গন রোধের কাজ উদ্বোধন

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে ময়মনসিংহবাসীর প্রত্যাশা ঐতিহ্যের ধারাকে ধারণ করে আধুনিকতার পথে আরও এগিয়ে যাবে প্রিয় এই জনপদ।

ভোরের আকাশ/ র.ই


 

ময়মনসিংহনজরুল ইসলাম

শেয়ার করুন: