বাকৃবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, জাতীয় ঐক্য, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ৭ নভেম্বরের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। শনিবার (৭ নভেম্বর ) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনফারেন্স হলে শিক্ষক সংগঠন সোনালী দলের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সোনালী দল, বাকৃবির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. হাম্মাদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. এ কে এম আদহামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব। অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. আরিফুল ইসলাম। এ সময় ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের প্রফেসর ড. মো. সামছুল আলম। মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. বাহানুর রহমান এবং ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির প্রফেসর ড. মো. শহীদুল হক।
আলোচনায় বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি, জাতীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব এবং দেশের সংকট উত্তরণে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরেন।
প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অপরিসীম অবদান রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবর্তক হিসেবে আত্মপরিচয় নির্ধারণে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নের শক্ত ভিত্তি নিহিত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উপাচার্য আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর ছিল সৈনিক ও জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের দিন। এ দিন দেশের স্বাধিকার ও জাতীয় সংহতির পথে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এবং অগণতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভূমিকা পালনে বাকৃবি সোনালী দলের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের বিকাশে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের ভূমিকা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী রাজনৈতিক শক্তির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার আগে দেশে তিনবার গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পর জিয়াউর রহমান, ১৯৯০ সালের পর খালেদা জিয়া এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা করা কঠিন উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শে বিশ্বাসীদের ঐক্যবদ্ধভাবে তা রক্ষার আহ্বান জানান।
বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানের সাধারণ জীবনযাপন ও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগে সহযোগিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে বাকৃবি সোনালী দলের বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য সংগঠনটির নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবীণদের অনেকেই এ দিবসের চেতনা সম্পর্কে জানলেও বর্তমান প্রজন্মের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এ বিষয়ে যথেষ্ট অবগত নয়। বিগত সরকারের সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রম থেকে এ-সংক্রান্ত ইতিহাসের বিষয়বস্তু বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। প্রকৃত ইতিহাস নতুন করে পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন এবং দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই ধারায় বেগম খালেদা জিয়াও দেশের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। তাঁদের উত্তরাধিকার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রেখে তাঁকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী হয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা