শিক্ষক সংকটে এক কক্ষে দুই শ্রেণির পাঠদান

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পহরচাঁদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান। ছয়টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন শিক্ষক।
ফলে একজন শিক্ষক ছুটিতে থাকলে এক কক্ষে একসঙ্গে দুটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটার পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
৩০ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়াজ মাহমুদ বাবর ছুটিতে থাকায় সহকারী শিক্ষক মু. আবছার উদ্দীন একই কক্ষে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন। অন্য একটি কক্ষে তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান করছিলেন স্থানীয়ভাবে নিয়োগ দেওয়া একজন শিক্ষক।
সহকারী শিক্ষক মু. আবছার উদ্দীন বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত কমাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিজেদের অর্থায়নে একজন স্থানীয় শিক্ষক রাখা হয়েছে। এরপরও শিক্ষক সংকটের কারণে মানসম্মত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের এ সংকটের কারণে বিদ্যালয়ে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, একজন শিক্ষককে একসঙ্গে একাধিক শ্রেণির পাঠদান করতে হলে প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রতি পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয় না। এতে অনেক শিক্ষার্থী পাঠ ঠিকমতো বুঝতে পারছে না।
বিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও শূন্য পদগুলো পূরণ করা হয়নি। ২০২০, ২০২২ ও ২০২৩ সালে নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলেও পহরচাঁদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদগুলো পূরণ করা হয়নি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু জাফর বলেন, পহরচাঁদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিদ্যালয়ের শূন্য পদের তালিকা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পদায়নের মাধ্যমে শিক্ষক সংকট সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফিরোজ আহমদ শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, লোহাগাড়া উপজেলায় নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শূন্য পদের বিপরীতে দ্রুত পদায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সংকট নিরসন ও নিয়মিত পাঠদান স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা