বাঁধ সংস্কারে দুর্নীতি: ফেনী পাউবোতে দুদকের অভিযান

ফেনীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কারে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার সকাল ১০টার দিকে দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে অবস্থিত পাউবো কার্যালয়ে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল নোমান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বাঁধ সংস্কারে পাউবোর দায়সারা কাজ ও দুর্নীতির কারণে প্রতি বছর ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার লাখো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ২৯ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ২,৬৮৬ কোটি ২০ লাখ ৫০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এমনকি চলতি বছরেও দুই দফা বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বারবার এমন ভাঙন ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য পাউবোর অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। এর প্রতিকার চেয়ে এবং টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবিতে গত ২৩ জুলাই ফেনীর নাগরিক সমাজ পাউবো কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছিল।
অভিযানের বিষয়ে দুদকের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল নোমান ভোরের আকাশ প্রতিনিধিকে বলেন, "বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তদন্ত শেষে আমরা পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি।" উৎস অনুসারে, দুদক দলটি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তার হোসেন মজুমদার জানান, দুদক কর্মকর্তারা ২০২৪ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর বেড়িবাঁধগুলোর সংস্কার কাজের তথ্য জানতে চেয়েছেন।
তিনি বলেন, "তারা নথিপত্রসহ বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা করেছেন। অফিসের নথিপত্র তদন্ত শেষে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের মেরামতকৃত অংশগুলো পরিদর্শনে গিয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা।" পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে দুদককে তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভোরের আকাশ/মো.আ.