জামালপুরে জলাবদ্ধতায় মারা যাচ্ছে ৬০ বছরের পুরনো লিচু গাছগুলো

জামালপুরে জলাবদ্ধতার কারণে মরে গেছে হর্টিকালচার সেন্টারের ৬০ বছরের পুরনো প্রায় দেড়শ মাতৃ লিচু গাছ।
হুমকিতে রয়েছে অন্যান্য গাছের মাতৃবাগান। এতে চারা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে হর্টিকালচার সেন্টার ও আশেপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতার কারণে সরকারের আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আগে থেকে পানি নিষ্কাশনে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় গাছের এমন করুণ পরিণতির জন্য ক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন পানি নিষ্কাশনে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
জামালপুর শহরের চন্দ্রা এলাকায় ২৫ একর জায়গা জুড়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের অবস্থান। এখানে গাছের চারা উৎপাদনের জন্য রয়েছে একাধিক মাত বাগান। কিন্তু গত তিন থেকে চার বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘ সময় এসব বাগানের প্রায় ১০ একর জায়াগ জুড়ে পানি জমে থাকে।
অন্যান্য মাতৃ বাগানের তুলনায় লিচু গাছের মাতৃ বাগান বেশ বড় ও পুরাতন। চারা উৎপাদন ও বানিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য ১৩৯টি মাতৃ লিচু গাছ রয়েছে বাগানে। তবে জলাবদ্ধতার কারণে গাছের গোড়ায় পানি জমে প্রায় ৬০ বছরের পুরনো এসব লিচু গাছের ১৩৭টি মরে গেছে।
পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় প্রতিটি গাছের গোড়ায় বছরের বেশীরভাগ সময় জমে থাকা পানিই এসব গাছের করুণ পরিণতির কারণ। মাতৃ লিচু গাছ মরে গিয়ে চারা উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বছরে লক্ষাধিক টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় হর্টিকালচার সেন্টারসহ আশেপাশের এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধাতার জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ শাখাওয়াত ইকরাম জানান, জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের ২৫ একর জায়গার মধ্যে ১০ একর জায়গা তিন বছরের বেশী সময় ধরে প্রায় হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত।
মাতৃ লিচু বাগানটি সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন। জলাবদ্ধতার কারণে ১৩৯টি মাতৃ লিচু গাছের মধ্যে প্রায় ১৩৭টি গাছই বিনষ্ট হয়ে গেছে। যেখান থেকে আমরা অনেক পরিমাণে সায়ন সংগ্রহ করে চারা উৎপাদন করতাম। এটা খুবই উন্নত মানের চারা ও উন্নত জাতের লিচু ছিল। প্রতি বছর লক্ষাধিক টাকার চারা বিক্রি হত।
তিনি আরো বলেন,জলাবদ্ধতার কারণে হর্টিকালচার সেন্টারের প্রোডাকশন এরিয়া যেখানে আমরা চারা উৎপাদন করে সংরক্ষণ করে রাখি সেগুলোও পানিতে নিমজ্জিত। যার ফলে উৎপাদিত চারাও নষ্ট হচ্ছে। লিচু ছাড়াও বিদেশি আমের বাগান, ড্রাগন বাগান ছিল এবং বিদেশি কিছু নতুন নতুন আমের জাত আনা হয়েছিল সেগুলোকে নিজ চোখে মৃত দেখেছি। জলাবদ্ধতার ব্যাপারটি বিভিন্ন সময় জেলার উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় আমরা উপস্থাপন করেছি।
ঢাকা থেকে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি, পৌরসভার মেয়র, প্রশাসকের নেতৃত্বে কমিটি এসে বিভিন্ন সময় পরিদর্শন করে গেছেন। আমরা সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দিয়েছি সেটা নিয়ে একটা সম্মিলিতভাবে পরিকল্পনা তৈরি করে তারা নিয়ে গেছেন। তারা পানি নিষ্কাশনে পরিকল্পনা নিবেন এই আশায় আছি।
জামালপুর পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক বলেন, মাস্টার ড্রেন না থাকার কারণে একটু বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন জায়গায় পানি উঠে। সার্ভে করে কোন এলাকা নিচু, কোন এলাকা উচু তা নির্ধারণ করেছি। কোভিড ১৯ প্রজেক্ট থেকে শহরের আনসার ক্যাম্প থেকে ব্রহ্মপুত্র নদী পর্যন্ত বাস্তবায়নাধীন ড্রেনের কাজটি শেষ হলে হর্টিকালচার সেন্টারের পানি নেমে যাবে।
আরও তিনটি ড্রেন নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে। বরাদ্দ পেলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তখন শহরে আর কোন জলাবদ্ধতা থাকবে না।
ভোরের আকাশ/রই