শিরোনাম
খুলনায় বিএনপি নেতার ছেলেকে গুলি করে হত্যাদেশের সংবিধান সব নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করেছে: ডেপুটি স্পিকারনাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশলং মার্চ ও ফাঁকা গ্যাস সিলিন্ডার দেখিয়ে জনগণকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না : মীর শাহে আলমএইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা শুরু ২ ডিসেম্বর: শিক্ষামন্ত্রীমোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সমঝোতা সইরাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫৭৭সোনার ভরিতে বাড়লো ৫ হাজার ৪৮২ টাকাখুলনায় বিএনপি নেতার ছেলেকে গুলি করে হত্যাদেশের সংবিধান সব নাগরিকের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করেছে: ডেপুটি স্পিকারনাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশলং মার্চ ও ফাঁকা গ্যাস সিলিন্ডার দেখিয়ে জনগণকে আর বিভ্রান্ত করা যাবে না : মীর শাহে আলমএইচএসসিতে এক-দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা শুরু ২ ডিসেম্বর: শিক্ষামন্ত্রীমোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সমঝোতা সইরাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫৭৭সোনার ভরিতে বাড়লো ৫ হাজার ৪৮২ টাকা

মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিন ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে প্রধান আসামিসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড ও আটজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জের বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এসকে. এম. তোফায়েল হাসান এ রায় প্রদান করেন।

পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারার বিধান মতে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে চার মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডপর আদেশ দেয় আদালত।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন, সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকার জহির উদ্দিনের ছেলে মো: জিয়ার উদ্দিন, মো: সামসুল হকের ছেলে মো: জাহিদুল ইসলাম, আ: রশিদ, জসিম ও আলী মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া।

এছাড়াও পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারার অপরাধে আট জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড  অনাদায়ে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়।

যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলেন, সিংগাইর উপজেলার সামেজ উদ্দিনের ছেলে মো: জহির উদ্দিন, আহম্মদ আলীর ছেলে আজিজুল ও উজ্জল, ফালানের ছেলে মো: সামসুল হক, জহির উদ্দিনের ছেলে সালাউদ্দিন, নুরু মিয়ার ছেলে মাজেদ মিয়া, বান্দু মিয়ার ছেলে মো: মরণ ও নমন আলীর ছেলে স্বপন।

একই এলাকার শুকুর জোলার ছেলে শামীম ও চাঁন মিয়ার ছেলে হাবু মিয়াকে ৩২৬/৩৪ ধারার অপরাধে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

একই মামলায় ফালান মিয়ার ছেলে মজনু মিয়াকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই এলাকার রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাসের কারাদন্ড ও সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়।

এছাড়া একই এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল, সওদাগরের ছেলে ওলী আহাদ, চানদের ছেলে শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস প্রদান করা হয়।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার আলোচিত এ বিষয়টি  গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। 

মামলার বিবরণে জানা যায়, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। স্বামী ও সন্তান না থাকায় তার মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তার স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ ভোগ দখল করতে থাকেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি।

২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় এ বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশ বৈঠকের দিন ধার্য ছিল। তবে ওই দিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে জসিম তার মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে গেলে রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

হামলায় আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ঘটনাস্থলে মারা যান। গুরুতর আহত করিম মোল্লা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।  গুরুতর আহত হন। 

এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সিংগার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন  ফরিদা আক্তার।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি ও পাবলিক প্রসিকিউটর আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। মামলার শুনানিতে ২১ জনের স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যের ভিত্তিতে আসামীদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজার আদেশ দেয়া হয়েছে। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ এবং বাদীপক্ষ সন্তষ্ট।

ভোরের আকাশ/রই


 

শেয়ার করুন: