নিখোঁজ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধারের ৩০ ঘন্টা পরও হয়নি মামলা!

গাজীপুরের শ্রীপুরে নাঈম নামের এক ব্যবসায়ী নিখোঁজের ৩০ ঘন্টা পর নদী থেকে হাত পা বাঁধা ভাসমান লাশ উদ্ধারের ৩০ ঘন্টা পরও হয়নি মামলা! বিষয়টি এলাকায় বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বৃহস্পতিবার সকাল দশটার দিকে পুলিশ নিখোঁজের ৩২ ঘন্টা পর ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। দীর্ঘ সময় পরও থানায় অভিযোগ করতে আসেনি স্বজনরা। এ ঘটনায় মামলা না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ। জন্ম দিয়েছে প্রশ্নের?
এর আগে গত মঙ্গলবার(২জুন) রাত বারোটার দিকে অজ্ঞাত ফোন পেয়ে নাইম তার মাছের খামারে গিয়ে নিখোঁজ হন। ঘটনার ৩০ ঘন্টা পর বৃহসপতিবার (৪জুন) সকালে পুলিশ উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামের মাটি কাটা নদীর শেখবাড়ি ঘাট থেকে তার হাত পা বাধা ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত নাঈম বরমী ইউনিয়নের বড়নল গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি বরমী বাজারে কাঁচা মালের ব্যবসা করতেন। বাড়ীর পাশেই একটি পুকুর ভাড়া নিয়ে করতেন মাছ চাষ।
জানা যায়, মঙ্গলবার (২জুন) রাত ১২টার দিকে নাঈম অজ্ঞাত ফোন পেয়ে বাড়ীর পাশের তার মাছের খামারের যান। তার বাড়ি ফিরতে বিলম্ব হয়। স্বজনরা ফোন করলেও রিসিভড করেনি। কিছু সময় পর থেকে তার মোবাইল বন্ধ পায় পরিবারের লোকজন । বৃহসপতিবার(৪জুন) সকালে পার্শবর্তী বরকুল গ্রামের মাটিকাটা নদীর শেখ বাড়ি ঘাটে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। জাতীয় জরুরী পরি সেবার নম্বর ৯৯৯ এ ফোন করে লাশের খবর জানায়। পরে শ্রীপুর থানা পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ উদ্ধারের প্রায় ত্রিশ ঘন্টা পর শুক্রবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দেয়নি নিহতের পরিবার।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, নাঈম একজন সৎ ও ভালো মানুষ ছিলো। তাকে একটি চক্র নির্মম ভাবে হত্যা করেছে । তার পরিবার অনেকটা ভয়ে রয়েছে। ওই চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করে কতোটা নিরাপদ থাকবে নিহতের পরিবার। কয়েক মাস পূর্বে এক দল সন্ত্রসী নাঈমকে বরমী কলেজ মাঠে আটকে মারপিট করে। নিহতের ভগ্নিপতি জহিরুল তাকে উদ্ধার করে আনে। হামলা কারীরা তখন নাঈমকে হত্যার হুমকিও দিয়ে ছিলো।
মরদেহ উদ্ধারের সময় নিহতের বাবা জানিয়ে ছিলেন, গত মঙ্গলবার রাত বারোটার দিকে নাঈম বাড়ির পাশের মাছের খামার গিয়ে নিখোঁজ হয়। তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকে। অনেক খোঁজে ও তার সন্ধান করতে পারিনি। বৃহস্পতিবার সকালে পাশের বরকুল গ্রামে নদীতে লাশ ভাসার খবর পেয়ে দৌড়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পাই। ঘাতকরা পরিকল্পিত ভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। আমি এর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চাই।
কেনো মামলা করলেন না এ বক্তব্য জানতে নাইমের বাবার মোবাইলে ফোন করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। নিহতের বড় বোনের স্বামী মাসুদ জানান, আমার শশুরের একমাত্র ছেলে নাঈম। তার মৃত্যুতে তিনি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত । আমরা পারিবারিক ভাবে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুত সময়ে আইনী ব্যবস্থা নিবো।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। নিহতের স্বজনরা বৃহস্পতিবার রাতে এসে ছিলো। তাদের বলেছি অভিযোগ দিতে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কোন অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভোরের আকাশ/এনউব