নেত্রকোনায় ভূমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে মানববন্ধন

নেত্রকোনায় শত বছরের সত্ত্ব-দখলীয় জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। এ সময় তারা জমি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, নেত্রকোনা সদর উপজেলার পুকিরা মৌজায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় তাদের পূর্বপুরুষদের কেনা প্রায় এক একর ৬৩ শতাংশ জমি রয়েছে। জমিটির সিএস খতিয়ান ও দাগ নম্বরসহ পরবর্তী জরিপের বিভিন্ন রেকর্ডও রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম ও তার স্বজনরা জানান, ১৯৭৬ সালে ওই জমির ৪৩ শতাংশ সরকার অধিগ্রহণ করে। এর বিনিময়ে তার বাবা ও চাচা জমির মূল্য গ্রহণ করেন। পরবর্তী বিআরএস জরিপে জমির একটি অংশ অন্যের নামে রেকর্ডভুক্ত হওয়ায় তারা ২০১৫ সালে নেত্রকোনা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৪৫৮/৩/২০১৫।
তাদের দাবি, ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত তাদের পক্ষে ডিক্রি দেন। তবে ওই ডিক্রির বিরুদ্ধে পরবর্তীতে আপিল করা হয়েছে, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন।
স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই জমির কয়েকটি ডোবা থেকে মাছ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আদালতে বিচারাধীন জমি নিয়ে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
পরে শফিকুল ইসলাম গংয়ের পক্ষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে ভূমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের দাবি করা সত্ত্ব-দখলীয় জমির অধিকার সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত আনোয়ারুল ইসলাম সাগর, আল-আমীন, ওয়াজেদ আলী ফকির ও ফেরদৌস কবির রুমেলসহ অন্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এর আইনগত নিষ্পত্তি সংশ্লিষ্ট আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
ভোরের আকাশ/জেআ