ফেনীতে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ১ অক্টোবরের ফেনী সফর ঘিরে নিরাপত্তার ছক চূড়ান্ত করেছে প্রশাসন। সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিস্থল রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট—এই তিন জোনে ভাগ করে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হচ্ছে। পাশাপাশি পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় সফরের দিন দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর উপলক্ষে চূড়ান্ত নিরাপত্তা সমন্বয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সভায় বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের দিন পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় পুলিশের দুই হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার থাকবে। নিরাপত্তায় এসএসএফ ছাড়াও পুলিশ, এসআরবি, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সব মিলিয়ে কতজন সদস্য মোতায়েন থাকবেন, তা সুনির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি তিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আগামী ১ অক্টোবর সকালে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সেখানে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।
এরপর ফুলগাজীতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এর মধ্যে খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ এবং পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি দপ্তরে স্থাপিত ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্যানেলের উদ্বোধন করবেন তিনি।
দুপুর ৩টা থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হবেন। সেখানে তিনটি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা, কৃষক কার্ড এবং দরিদ্র শিক্ষার্থী ও অসহায় মানুষের জন্য সহযোগিতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
পরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার।
ফেনী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম বলেন, সভাস্থলের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে তিনটি জোনে ভাগ করা হবে। এগুলো হলো রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট জোন। রেড জোনে প্রবেশের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা কার্ড এবং ইয়েলো জোনের জন্য আলাদা কার্ড থাকবে। নির্ধারিত কার্ডধারীরাই সংশ্লিষ্ট জোনে প্রবেশ করতে পারবেন। রেড ও ইয়েলো জোনের বাইরে থাকা এলাকা হোয়াইট জোন হিসেবে বিবেচিত হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারবেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আনুষঙ্গিক প্রস্তুতির কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে জনসভাস্থল প্রস্তুতের কাজ চলছে। একই সঙ্গে পরশুরাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরির প্রস্তুতি চলছে।
জনসভাস্থলে মঞ্চ, উদ্বোধনী ফলকের স্থানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের কথা থাকলেও তা স্থগিত করে ১ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
ভোরের আকাশ/ ইউএম