লোহাগাড়ায় ২৬ বছর ধরে পরিত্যক্ত কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের সোনাইবর পাড়া এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য নির্মিত ভবনটি প্রায় ২৬ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ক্লিনিকের স্থান নির্ধারণ নিয়ে তৎকালীন এক ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয়দের বিরোধের জেরে বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়ায়। এরপর নির্মিত ভবনে আর কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হয়নি।
এতে ইউনিয়নের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটি অংশ স্থানীয়ভাবে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সরেজমিনে জানা গেছে, পুটিবিলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছিল। পরে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান ক্লিনিকটি ৭ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লোকেশনের পাড়ায় প্রস্তাবিত জায়গাটি নিচু এলাকায় অবস্থিত। এর অদূরেই রয়েছে পুটিবিলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র। স্থানীয়দের দাবি, কমিউনিটি ক্লিনিকের নীতিমালা অনুযায়ী প্রস্তাবিত ওই স্থানটি ক্লিনিক স্থাপনের জন্য উপযোগী ছিল না। এ নিয়ে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয়দের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে অভিযোগ করেন। পরে বিরোধটি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলা চলাকালীন ওই স্থানে ক্লিনিক ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু মামলার কারণে সেখানে আর কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে একতলা ভবনটি দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। মামলার বাদী ফরিদুল আলম নূরী বলেন, এলাকার স্বার্থে মামলার পর একটি সমাধানের পথ বের করার জন্য কেউ এগিয়ে আসেননি। পুটিবিলা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকাবল বলেন, মামলার বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য-নথিপত্র নেই। মামলার বাদী কয়েকবার বিভিন্ন তথ্য-নথিপত্র দেওয়ার কথা বললেও সেগুলো দেননি। এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুল্লাহ আল ইফরান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে ওই এলাকার কেউ তাঁকে কোনোদিন অবহিত করেননি। কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য তাঁর দরজা উন্মুক্ত থাকবে।
প্রায় দুই দশক ধরে ভবনটি ব্যবহার না হওয়ায় সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনাটির বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যতে এর ব্যবহার কীভাবে করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ভোরের আকাশ/ এনউব