মুন্সীগঞ্জে অটোরিকশাচালক হত্যায় ৫ জন গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রতনপুর এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ মজিবর মাঝি (৪৪) হত্যা মামলায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মামলাটি উদ্ঘাটন করে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ৩১ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে তিনি নিজের অটোরিকশা ও একটি মোবাইল নিয়ে গ্যারেজ থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এক পর্যায়ে ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে তার পরিবার থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই থানার ডায়রি সূত্রে সদর থানার টনক নড়ে এবং নিখোঁজ সন্ধান চলে।
পরে সোমবার (৩ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টা ৫০ মিনিটে মুন্সীগঞ্জ সদর থানাধীন রতনপুর মধ্যপাড়া সরকারবাড়ি ব্রিজ সংলগ্ন ডোবায় বিছানার কাপড় ও কম্বলে প্যাঁচানো অবস্থায় পানিতে ভাসমান একটি মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। নিহতের আত্মীয়স্বজন লাশ শনাক্ত করেন যে, এটি নিখোঁজ মজিবর মাঝির দেহ। লাশের দুই হাত ও দুই পা সাদা মোটা প্লাস্টিকের রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। শরীরে পচন ধরেছিল এবং চামড়া ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল।
পুলিশ সুপার মুন্সীগঞ্জ জেলার নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে মুন্সীগঞ্জ থানার ইনস্পেক্টর (তদন্ত) সজিব দে, এসআই সোহাগ ও এসআই সাদ্দাম মোল্লার সমন্বয়ে একটি চৌকস তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ১. সোহাগ মোল্লা (৪৩) ২. জয় (৩১) ৩. ইমরান (৩০) , ৪. হারুন (৫১) ৫. আলী হোসেন (৪০) এদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায় সদর থানা সূত্রে।
তদন্ত টিমের কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার আসামি সোহাগ, জয় ও ইমরান হত্যার মূল ঘটনায় সরাসরি জড়িত। তাদের প্রাথমিক স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তারা মজিবর মাঝিকে কৌশলে মাওয়া যাওয়ার কথা বলে গত ৩১ অক্টোবর বিকেল ৬টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের বানিক্যপাড়া এলাকার তেলেরবিলের ইমরানের ভাড়াটিয়া বাসায় নিয়ে যায়।
নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়ে মজিবর মাঝিকে অচেতন করে । এরপর হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। পরে সোহাগ মোল্লা রশি দিয়ে গলায় প্যাঁচ দিয়ে ধরে রাখে, ইমরান পা ধরে বসে, আর জয় বুকের ওপর বসে কাঁচি দিয়ে বুকের ওপর আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যাকারী জয় পূর্বে আরো একটি হত্যার সাথে এই হত্যা নিয়ম একই বলে সদর তার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে স্বীকার করেছেন বলে বলে সাংবাদিকদের জানায়।
পরে তারা সোহাগের বাড়ি থেকে আনা বিছানার চাদর ও ইমরানের বাসার কম্বল দিয়ে লাশ প্যাঁচিয়ে সোহাগের অটোরিকশা করে রতনপুর এলাকার ডোবায় ফেলে দেয়। হত্যার পরদিন সোহাগ অটোরিকশাটি হারুনের কাছে ৯৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে এবং হারুন পরে রামসিং আলীর গ্যারেজে ১ লাখ ১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এম সাইফুল আলম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং মামলার তদন্ত চলমান।
ভোরের আকাশ/মো.আ.