গাজীপুরে পোশাক কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

গাজীপুরে পোশাক কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অযৌক্তিক ইস্যূকে কেন্দ্র করে শ্রমিক আন্দোলনের মাধ্যেমে কারখানা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় তারা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) শ্রমিকরা সকালে কারখানা গেটে এসে বন্ধের নোটিশ দেখে উত্তেজিত হয়ে শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে।
এ সময় স্থানীয় মিতালী ক্লাব থেকে কোনাবাড়ী নতুন বাজারের শাখা সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী (আমবাগ) বাঘিয়া এলাকার হানিওয়েল পোশাক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে সোমবার (২৪ নভেম্বর) কারখানার শ্রমিকেরা অযোক্তিক দাবী উত্থাপন করে অবৈধভাবে কারখানায় সংঘবন্ধ হয়ে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করার অভিযোগে কারখানা কর্তৃপক্ষ এ ঘোষণা দেন।
পুলিশ আন্দোলনরত শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানান, হানিওয়েল পোশাক কারখানার শ্রমিকরা গত কয়েকদিন ধরে তাদের প্রতিমাসের ১০ তারিখের মধ্যে পূর্ববর্তী মাসের বেতন ভাতা পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিল শ্রমিকরা। তারা ওই দাবিতে সোমবার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিনভর কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করে। এসময় কারখানার কয়েক শ্রমিককে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল সৃষ্টি করার অভিযোগে ছাটাই করার গুজব ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। তারা কারখানার কয়েক কর্মকর্তার অপসারণের দাবি জানায়।
এক পর্যায়ে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার আশংকা দেখা দেয়। এতে শ্রমিকরা অযোক্তিক দাবি উত্থাপন করে অবৈধভাবে কারখানায় সংঘবন্ধ হয়ে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করার অভিযোগে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে রাতেই নোটিশ টানিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার শ্রমিকরা কারখানায় এসে কারখানার সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এডমিন এন্ড ফাইনান্স) স্বাক্ষরিত বন্ধের ওই নোটিশ দেখতে পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এ সময় তারা কারখানার পার্শ্ববর্তী মিতালী ক্লাব থেকে কোনাবাড়ী নতুন বাজার সড়ক বন্ধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়ে সড়কের উপর থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে বিকেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সোমবার (২৪ নভেম্বর) কারখানার শ্রমিকবৃন্দ কর্তৃক কিছু অযোক্তিক দাবী উত্থাপন করে অবৈধভাবে কারখানাতে সংঘবন্ধ হয়ে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে চরম বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করেন। যার কারণে কারখানার অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটে। এছাড়াও কারখানার নির্ধারিত রপ্তানী কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কারনে কর্তৃপক্ষ বিপুল পরিমান আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষ বার বার শ্রমিকবৃন্দদের কাজে যোগদানের জন্য অনুরোধ করা সত্বেও তারা উৎপাদন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন। শ্রমিকদের এ ধরনের আচরন অবৈধ ধর্মঘটের শামিল এবং শ্রম আইন পরিপন্থি। কারখানার শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩(১) ধারা মোতাবেক মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষনা করা হল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে কারখানা চালু করার অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি হলে খোলার তারিখ নোটিশের মাধ্যমে অবহিত করা হবে। তবে, কারখানার নিরাপত্তা বিভাগ ও রক্ষনাবেক্ষন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ আদেশের আওতামুক্ত থাকবেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ (কোনাবাড়ী জোন) পরিদর্শক মোর্শেদ জামান বলেন, শ্রমিক ও মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে কারখানার সামনে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ভোরের আকাশ/জাআ