পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণের অনুমোদনে আনন্দ

পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের খবরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন নদীর দুই পাড়ের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ায় মীরগড় এলাকায় স্থানীয়রা মিষ্টি বিতরণ করেছেন।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর থেকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় সড়কের মীরগড় এলাকায় করতোয়া নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতুটি নির্মাণ করা হবে। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।
বর্তমানে করতোয়া নদীর ওপর একটি কাঠের সেতু দিয়ে দুই পাড়ের মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে পারাপারের জন্য ১০ টাকা করে দিতে হয়। বর্ষাকালে ও ভারী যানবাহন চলাচলের সময় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, নতুন সেতু নির্মাণ হলে নদীর দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। কৃষকেরা সহজে উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারবেন। পাশাপাশি অসুস্থ রোগীদের দ্রুত উপজেলা ও জেলা সদরের হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমও সহজ হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা জয় বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কাঠের সেতু দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে ও ভারী যানবাহন চলাচলের সময় অনেক সমস্যা হয়। নতুন সেতু নির্মাণের খবর আমাদের জন্য খুবই আনন্দের। সেতুটি হলে যাতায়াতের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।”
আরেক সুবিধাভোগী আসিম উদ্দিন বলেন, “এই সেতু হলে কৃষিপণ্য সহজে বাজারে নেওয়া যাবে। চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য পঞ্চগড় শহরে যাতায়াতও সহজ হবে। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে যাওয়ায় আমরা আনন্দিত।”
প্রকল্প অনুমোদনের খবর ছড়িয়ে পড়লে মীরগড় এলাকায় স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে মিষ্টি বিতরণ করেন। এ সময় নদীর দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
পঞ্চগড় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মোতাহার আলী বলেন, “মীরগড় এলাকায় দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণের প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে করতোয়া নদী পারাপারে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে। একই সঙ্গে এ সড়কে যানবাহন চলাচল ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে।”
ভোরের আকাশ/জেআ