সুন্দরগঞ্জে অ্যারাইজ ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

‘কৃষকের মুখে মুখে সমৃদ্ধির গান, মাঠজুড়ে হাসে যখন অ্যারাইজ ধান’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে বায়ার ক্রপ সায়েন্সের অ্যারাইজ মাঠ দিবস।
রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের জামাল মৌজায় কৃষক মো. জিয়াউর রহমান জিয়ার জমিতে এ আয়োজন করা হয়।
মাঠে অ্যারাইজ জাতের ধানের ফলন ও গুণগত বৈশিষ্ট্য দেখে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। বিশেষ করে অ্যারাইজ এজেড ২২৪১ জাতের আমন ধানের বাম্পার ফলন ঘিরে কৃষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আশাবাদ।
মাঠ দিবসে বায়ার ক্রপ সায়েন্সের কর্মকর্তারা জানান, অ্যারাইজ এজেড ২২৪১ ও অ্যারাইজ আইএনএইচ ১৬০১৯—দুটি হাইব্রিড ধানের জাতই প্রচলিত উফশী জাতের তুলনায় বেশি ফলন দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এর মধ্যে অ্যারাইজ এজেড ২২৪১ জাতটি ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট (বিএলবি) রোগ সহনশীল। এ জাতের ধানের জীবনকাল ১২০ থেকে ১২৫ দিন। চাল মাঝারি চিকন, ছড়ায় দানার ঘনত্ব বেশি এবং শীষ লম্বা।
অন্যদিকে অ্যারাইজ আইএনএইচ ১৬০১৯ জাতটি বাদামি গাছফড়িং ও পাতাপোড়া রোগ সহনশীল বলে জানানো হয়। এ জাতের ধানের জীবনকাল ১২৫ থেকে ১৩০ দিন। এর চাল মধ্যম চিকন এবং গাছ হেলে পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক কম। উভয় জাতই প্রচলিত উফশী জাতের তুলনায় বেশি ফলন দিতে সক্ষম বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তাঁরা আরও জানান, অ্যারাইজ ২২৪১ জাতের ধান প্রচলিত আমন জাতের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি ফলন দিতে পারে। জাতটি খরা সহনশীল। পাশাপাশি লেদা পোকা, বাদামি ঘাসফড়িং, বিএলবি ও মাজরা পোকার আক্রমণ মোকাবিলায় সক্ষম বলে উল্লেখ করেন তাঁরা।
মাঠ দিবসে উপস্থিত ছিলেন, বায়ার ক্রপ সায়েন্সের ফিল্ড অ্যাক্টিভেশন ম্যানেজার (নর্থ) কৃষিবিদ মো. তরিকুল ইসলাম, গাইবান্ধা-বগুড়া রিজিয়নের কাস্টমার কানেক্ট ম্যানেজার (সিসিএম) মো. মেহেদী হাসান পলাশ, সুন্দরগঞ্জের ফিল্ড অফিসার মো. রবিউল ইসলাম এবং গাইবান্ধা টেরিটরির এগ্রি কনসালট্যান্ট আবু সাঈদ।
এ সময় অ্যারাইজ ধানের চাষি মো. জিয়াউর রহমান জিয়া (ব্লক: জামাল) তাঁর জমিতে উৎপাদিত ধানের ফলন ও চাষের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি ৩৩ শতাংশ জমিতে অ্যারাইজ ২২৪১ জাতের ধান চাষ করেছি। নমুনা শস্য কর্তনের পর ফলন হিসাব করে গড়ে ২২ মণ ধান পাওয়ার আশা করছি। এ জাতের ধানের ফলন ও বৈশিষ্ট্য দেখে আমি সন্তুষ্ট। আমার জমির ফলন দেখে এলাকার অন্য কৃষকেরাও এ জাতের ধান চাষে আগ্রহী হবেন বলে আশা করছি।’
কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, স্থানীয় মাটির ধরন ও আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নত জাতের ধান চাষ এবং সঠিক কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে আমন মৌসুমে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ভোরের আকাশ/রই