সৈয়দপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন

নীলফামারীর সৈয়দপুরে যৌতুকের দাবিতে মোছা. মিথিলা আক্তার মিম (২০) নামে এক গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতন, চোখে আঘাত করে রক্তাক্ত করার ও তাঁর কোলে থাকা ২২ মাসের শিশুকে জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে সৈয়দপুর থানার খাতামধুপুর এলাকার মিষ্টু মিয়ার মেয়ে মিথিলা আক্তার মিমের সঙ্গে একই এলাকার মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মো. আকাশের (২১) প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ে হয়। তাঁদের ঘরে আমেনা আক্তার নামে ২২ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে মিথিলা উল্লেখ করেন, বিয়ের পর থেকেই স্বামী আকাশ, শাশুড়ি রেহেনা বেগম (৫০), নানি-শাশুড়ি সুফিয়া বেগম (৬৫) ও মামা-শ্বশুর আবু কালাম (৫০) তাঁর কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে বিভিন্ন সময় চাপ প্রয়োগ ও মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে যৌতুকের দাবিকৃত টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামী আকাশ তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয় ও ডান চোখে আঘাত লেগে রক্ত জমাট বাঁধে বলে অভিযোগ করেন মিথিলা। এ সময় নানি-শাশুড়ি তাঁর চুল ধরে টেনে চড়-থাপ্পড় মারেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে তাঁর কোলে থাকা শিশুকন্যাকে কেড়ে নিয়ে ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয়দের সহায়তায় পরে সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন মিথিলা।
তবে গৃহবধূর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিবাদীপক্ষ। স্থানীয় আপস-মীমাংসার সূত্র ও বিবাদী পরিবারের দাবি, বিষয়টি পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝি ও তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার ঘটনা। মো. আকাশ বলেন, ‘আমি কি তাকে মেরে ফেলেছি, নাকি তেমন মারধর করেছি—পারিবারিক সাধারণ বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়েছে, কোনো গুরুতর নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি।’
বিবাদীপক্ষ আরও দাবি করে, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘গৃহবধূ মিথিলা আক্তার মিমের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভোরের আকাশ/সু.পা