বেড়ায় আটক চোর, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ মাসের কারাদণ্ড

পাবনার বেড়ায় চুরির উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশকালে জনতার হাতে আটক হওয়া এক চিহ্নিত চোর ও মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত ইউএনও) নুরেন মায়িশা খান এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. আশরাফুল ইসলাম (গরিবুল্লাহ) বেড়া উপজেলার পেচাকোলা গ্রামের আমির শেখের ছেলে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের একজন পেশাদার চোর ও মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা মো. বোরহান উদ্দিনের বাড়ির দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে চুরির চেষ্টা চালান আশরাফুল। এ সময় বাড়ির লোকজনের টের পেয়ে স্থানীয় জনতা তাকে ধাওয়া করে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কিছুদিন আগে পাশের বাড়ি থেকে একটি মোবাইল চুরির কথাও স্বীকার করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় জনতা তাকে বেড়া মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। খবর পেয়ে এএসআই আলী আজমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, মাদক সেবন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপরাধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী এবং এম.জি. কেস নম্বর ৫৩/২০২৬ মূলে তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পরপরই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ থেকেই এই সাজা কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, এ ধরনের অপরাধীদের কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ চুরি ও মাদকের উপদ্রবে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নাজেহাল অবস্থায় ছিলেন। এলাকাবাসীর দাবি, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং মাদকের ব্যাপকতা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপ আরও জোরদার করা উচিত বলে মনে করেন এলাকাবাসী।
ভোরের আকাশ/ এনউব