কাশিয়াবাড়ী সেতুর সংযোগ সড়কে ধসে, দুর্ভোগে দুই পাড়ের মানুষ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কাশিয়াবাড়ী সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়ক ভারী বর্ষণে ধসে পড়েছে।
এতে সড়কে গভীর খাদ সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও পথচারীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে বৃহস্পতিবার বিকেলে দেখা যায়, উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী গ্রামের খালের ওপর নির্মিত ৯৬ মিটার দীর্ঘ সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কের বড় অংশ ধসে গেছে। ফলে সড়কের পাশে গভীর খাদ তৈরি হয়েছে এবং এতে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে বাওয়ার গ্রাম-কাশিয়াবাড়ী গ্রামের সুংযোগস্থলের খালের ওপর প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ওই বাজেটের মধ্যে সেতুর উভয় পাশে ১৯০ মিটার করে পাকা রাস্তা তৈরির কথা ছিল। তবে দুই বছর আগে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কে কাজ সম্পন্ন হয়নি।
সড়কের দুই প্রান্তেসড়ক নিচু জায়গা থাকায় সেখানে গাইডওয়াল নির্মাণে স্থানীয় জমির মালিকদের বাধার মুখে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি টানা বর্ষণে পানির স্রোতে সংযোগ সড়ক ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেতু ও ওই সড়কের কাজ পায় জামালপুরের এমইএম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রায়ই মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও অটোভ্যান খাদে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, 'সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পথচারীদেরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত রাস্তা সংস্কার করা না হলে যে কোন দিন বড় ধরণের সমস্যা হতে পারে।'
রৌমারী উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কাশিয়াবাড়ী এলাকায় ওই ব্রীজটি উঁচু। জমির মালিকদের জটিলতার কারণে সেতুর দুই প্রান্তে গাইড ওয়াল নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত সেখানে রিটার্নিং ওয়াল করে সংস্কারকাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।
তিনি আরও বলেন, উপস্থিত ওই সড়কের ভাঙন এলাকায় মাটি ফেলে মানুষের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী এলাকার ব্রীজ ও সড়কের সমস্যাটি নিয়ে একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে। তাঁরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।
ভোরের আকাশ/র.ই