চাঁদপুরে মেঘনায় নিখোঁজ লঞ্চযাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাটের পাশের মেঘনা নদী থেকে লঞ্চ থেকে পড়ে নিখোঁজ হওয়া রবিন (৩০) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় ২৬ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।
এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী ‘মুকবিল-২’ লঞ্চটি ষাটনল লঞ্চঘাটে যাত্রী নামানোর সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রবিন শরীয়তপুরের সন্তান। তিনি নারায়ণগঞ্জে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার শ্বশুরবাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ী ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামে। রবিন ও তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার দম্পতির সাড়ে চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকালে লঞ্চ থেকে নামার পর নিজের ব্যাগ লঞ্চেই রয়ে গেছে বুঝতে পেরে রবিন পুনরায় লঞ্চে ওঠেন। পরবর্তীতে লঞ্চ থেকে নামার সময় জলযানটি পেছনের দিকে চালিয়ে দেওয়া হলে তিনি ঘাটে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করেন এবং নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। ঘটনার পরপরই ‘মুকবিল-২’ লঞ্চটি দ্রুত মোহনপুর লঞ্চঘাটের দিকে চলে যায়। পরে মোহনপুর নৌ-পুলিশ লঞ্চটি আটক করে। এ সময় লঞ্চের মাস্টার মনির হোসেন (৫০) ও গ্রিজার মো. সুমন মিয়াকে (২৭) আটক করা হয়।
নিখোঁজ যাত্রীর ফেলে যাওয়া ব্যাগের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। ব্যাগে থাকা মোবাইল ফোনের সিমকার্ড অন্য ফোনে লাগিয়ে বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি থেকে কল করা হলে রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার ফোন রিসিভ করে জানান নম্বরটি তার স্বামীর। স্বামীর নিখোঁজের খবর পেয়ে ষাটনল লঞ্চঘাটে ছুটে আসেন তিনি এবং দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে আহাজারি করতে থাকেন।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ষাটনল লঞ্চঘাট পরিদর্শন করেন মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি। তিনি নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সঙ্গে কথা বলে উদ্ধার কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন।
বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক পিপিএম জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে মামলা দায়েরের জন্য এজাহার দিয়েছেন।
চাঁদপুর নদী ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. রাকিবুল ইসলাম ও বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক সঞ্জয় দেবনাথ জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও বিআইডব্লিউটিএ যৌথভাবে তীব্র স্রোত ও প্রতিকূলতার মধ্যেও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে এবং অবশেষে শনিবার দুপুরে মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘাটে উপস্থিত নিহতের স্ত্রী ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের বাতাস।
ভোরের আকাশ/আ.র