শিরোনাম
নয়াপল্টনের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণসড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতরা পাবেন ১-৫ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবেসৌদিতে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৭ বাংলাদেশিডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৫৫মার্কিন ভিসা নিয়ে সতর্ক করলো দূতাবাসসিপাহি-জনতার বিপ্লবে অপশক্তি পরাভূত হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রীবিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দামজাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীনয়াপল্টনের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণসড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতরা পাবেন ১-৫ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবেসৌদিতে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ৭ বাংলাদেশিডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৫৫মার্কিন ভিসা নিয়ে সতর্ক করলো দূতাবাসসিপাহি-জনতার বিপ্লবে অপশক্তি পরাভূত হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রীবিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দামজাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

বেড়ায় বৈধ অনুমোদন, প্রশিক্ষণ ছাড়াই চলছে রমরমা অপচিকিৎসা বাণিজ্য

বেড়া-সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
বেড়ায় বৈধ অনুমোদন, প্রশিক্ষণ ছাড়াই চলছে রমরমা অপচিকিৎসা বাণিজ্য
বেড়ায় বৈধ অনুমোদন, প্রশিক্ষণ ছাড়াই চলছে রমরমা অপচিকিৎসা বাণিজ্য

পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানাধীন মাশুমদিয়া ডিগ্রি কলেজের সামনে প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বৈধ অনুমোদন বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই ‘কবিরাজ’ সেজে রমরমা অপচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন মো. হালিম কবিরাজ নামের এক ব্যাক্তি।

ব্লাড ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস থেকে শুরু করে জটিল সব রোগের ‘গ্যারান্টিযুক্ত’ নিরাময়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ফেসবুকে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে দূরদূরান্ত থেকে আসা সহজ-সরল রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। 

তবে ডাক্তারদের মতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোনো কবিরাজি চিকিৎসাকে নিরাপদ ও কার্যকর বলা যায় না। প্রচলিত আইন ও হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী অনিবন্ধিত কবিরাজি বা তান্ত্রিক চিকিৎসা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

হালিম কবিরাজের ফেসবুক প্রচারণায় ও লিফলেট/বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি সাপে কাটা ও কুকুরের কামড় খাওয়া রোগীর ফ্রি চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তবে এর বাইরে বাতব্যথা, মাজা ব্যথা, হাঁটু ব্যথা, রগের ব্যথা, মানবদেহের জয়েন্টের ব্যথা, হাত-পা ভাঙা ২-৩ মিনিটে কার্যকারিতা শুরু, বিনা অপারেশনে কিডনি, পিত্তথলি ও মূত্রথলির পাথর গলানো, নাকের পলিপাস, টিউমার, আচিল, কিডনি, অর্শ, ফিস্টুলা, লিঙ্গ ছোট ও বাঁকা শক্ত মোটা ও বড় হয়, দ্রুত বীর্যপাত রোধসহ নানা জটিল রোগের সুচিকিৎসা করা হয়। বিজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বহিরাগত রোগীদের জন্য থাকা ও খাওয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নামমাত্র বা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকা এই হালিম কবিরাজ প্রতিদিন গড়ে শত শত রোগী দেখেন এবং রোগীপ্রতি প্রায় চার হাজার টাকা করে আদায় করেন। প্রতিদিন মোটা অংকের আর্থিক লেনদেন হওয়ার কারণে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও কতিপয় অসাধু চক্রকে ম্যানেজ করেই এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও তিনি তথাকথিত বিভিন্ন ধরনের অপারেশনও করেন। ওষুধ তৈরির লাইসেন্স ছাড়া নিজেই গাছগাছালির ওষুধ তৈরি করেন। রোগী প্রতি ভিজিট নেন ৫০০শ টাকা হাতে ধরিয়ে দেন ২/৩ হাজার টাকার গাছগাছালির ওষুধ। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল বা স্বীকৃত কোনো আয়ুর্বেদিক/ইউনানি বোর্ডের নিবন্ধন নেই তার। ছিলেন হাটবাজারের হকার। এখন গড়েছেন রুগীদেখার চেম্বার। চিকিৎসার পাশাপাশি নিজ চেম্বার থেকেই বিক্রি করেন শত শত প্রকার ওষুধ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের প্রচার বাড়াতে নিজের রয়েছে ‘‘কবিরাজ হালিম’’ নামের পেইজ এছাড়াও স্থানীয় তথাকথিত কন্টেন ক্রিয়েটরদের দিয়ে ভিডিও বানিয়ে প্রচার করাচ্ছেন নিয়মিত। প্রশাসনের চোখের সামনেই রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি দেখার কেউ নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অপচিকিৎসার শিকার হয়ে সাময়িকভাবে কিছু রোগী উপশম বোধ করলেও পরবর্তীতে তাদের শারীরিক জটিলতা আরও মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। এলাকার কয়েকজন পল্লী চিকিৎসক জানান, কবিরাজ হালিম গাছগাছড়ার নির্যাস বা প্রলেপের আড়ালে এক ধরনের তীব্র ক্ষতিকর অ্যাসিড ব্যবহার করে নাকের পলিপাস পুড়িয়ে ফেলেন। এর ফলে পরবর্তীতে রোগীদের শরীরে ক্যানসারের মতো মারাত্মক ও জীবনঘাতী ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

হালিম কবিরাজের কাছে নাকের পলিপাস এর চিকিৎসা নেয়া নাটোরের মোঃ জহির আলী অভিযোগ করে বলেন, আমি ফেসবুকে দেখে দেড়মাস আগে তার কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়ে আমার জীবন নিয়ে টানাটানি। তার দোকানে গিয়ে ৪ হাজার টাকা চুক্তিতে চিকিৎসা নেই তখন কিছু টের পাইনি। মাসখানেক পর আমার নাকের ভিতর ঘা হয়ে যায় পরে আমি ডাক্তারের পরামর্শ নিলে তিনি বলেন, আমার নাকের বাড়তি মাংস এসিড দিয়ে পুড়িয়ে দিছে। এতে নাকের মধ্যে ঘাঁ সৃষ্টি হয়েছে। আমি চাই আমার মতো যেন কেউ প্রতারিত না হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, এই হালিম কবিরাজ এর কোন সার্টিফিকেট নাই। সে প্রতারনা করে দির্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসছে। আমরা একই ব্যাক্তিকেই দেখি প্রতি মাসেই আসে চিকিৎসা নিতে, তাহলে রোগ সারে কিভাবে। আর রুগী আসলেই ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। সে নিজেই তার বাড়িতেই ওষুধ বানায়। প্রশাসন দেখেও দেখে না।

মাশুন্দীয়া গ্রামের সাইদ আলী জানান, হালিম আগে হাটবাজারে মজমা (হকারি) করে বিভিন্ন গাছগাছালির ওষুধ বিক্রি করতো। বেশকিছুদিন হলো সে বাজারে চেম্বার বানিয়ে রুগী দেখে। হুজুকে বাংগালী হুমড়িখেয়ে এসে চিকিৎসার নামে এই ভুয়া কবিরাজকে টাকাপয়সা দিয়ে লতাপাতা কিনে নিয়ে যায়। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিবে।

 এ বিষয়ে হালিম কবিরাজের সাথে মুঠোফোনে কবিরাজি বা হেকিমি প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ও সরকারি বৈধ অনুমোদন আছে কি না? জানতে চাওয়া হলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্টো তিনি ডজনখানেক সাংবাদিকের নাম নিয়ে বলেন আপনি আমার বিষয়ে তাদের সাথে কথা বলেন। পরবর্তীতে আবার এ প্রতিবেদক কে চায়ের দাওয়াত দিয়ে বলেন কিছু লেখার দরকার নাই, ভাই আমার এখানে আসেন বসে চা খাই আর কথা বলি।

বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ রেহানা পারভীন জানান, ‘চিকিৎসা কোনো বিশ্বাস বা অনুমানের বিষয় নয়। চিকিৎসার ভিত্তি হওয়া উচিত রোগ নির্ণয়, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, ওষুধের গুণগত মান এবং রোগীর নিরাপত্তা। কিছু ভেষজ উপাদানের ঔষধি গুণ থাকলেও, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া কোনো কবিরাজি চিকিৎসাকে নিরাপদ ও কার্যকর বলা যায় না। তবে এই কবিরাজের বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যাবস্থা নিব বলে তিনি জানান।’

বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনান্ট চাকমা বলেন, ‘এই কবিরাজের বিষয়ে আমি অবগত নই। কিভাবে আইন অমান্য করে ভুয়া কবিরাজি চালিয়ে যাচ্ছেন তা খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পাবনা জেলা সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘লাইসেন্স বা বৈধ অনুমোদন ছাড়া কেউ চিকিৎসাসেবা দিতে পারে না। সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে এই ধরনের অপচিকিৎসা ও প্রতারণা বরদাস্ত করা হবে না। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ভোরের আকাশ/রই


 

শেয়ার করুন: