শিরোনাম
রোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক সমস্যা নয়, এটি গভীর রাজনৈতিক ইস্যু: শামা ওবায়েদটিএসসি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণে আটক ৩ জনের পরিচয় মিললরাজনৈতিক সমর্থন ব্যালটে, অফিসে নয়: কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রীমালিবাগ সিআইডি অফিসের পার্কিংয়ে ককটেল বিস্ফোরণবন্দরে পড়ে থাকা সাড়ে ৬ হাজার কনটেইনার ধ্বংসের উদ্যোগরাজধানীতে এবার স্কুল বাসে আগুনশেখ হাসিনার প্রতিটি হত্যার বিচার হবে: রিজভীপররাষ্ট্র সচিব হলেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরীরোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক সমস্যা নয়, এটি গভীর রাজনৈতিক ইস্যু: শামা ওবায়েদটিএসসি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণে আটক ৩ জনের পরিচয় মিললরাজনৈতিক সমর্থন ব্যালটে, অফিসে নয়: কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রীমালিবাগ সিআইডি অফিসের পার্কিংয়ে ককটেল বিস্ফোরণবন্দরে পড়ে থাকা সাড়ে ৬ হাজার কনটেইনার ধ্বংসের উদ্যোগরাজধানীতে এবার স্কুল বাসে আগুনশেখ হাসিনার প্রতিটি হত্যার বিচার হবে: রিজভীপররাষ্ট্র সচিব হলেন সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী

প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ১৭তম জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ : ৮ নভেম্বর ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ১৭তম জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে ১৭তম জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াডের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, যুক্তিনির্ভর চিন্তা এবং গণিতের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানোর প্রত্যয়ে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৭তম জাতীয় স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। দিনব্যাপী আয়োজনের শেষ পর্বে প্রতিযোগীদের সঙ্গে অতিথিদের প্রাণবন্ত মতবিনিময়, ফলাফল প্রকাশ এবং সেরা দশজনের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।

সকালে ৯টায় অলিম্পিয়াডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় মূল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষে দামপাড়া ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ৬ নভেম্বর ২০২৬, বেলা ২টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত এ পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার, রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার দেব এবং বাংলাদেশ গণিত সমিতির কাউন্সিল সদস্য ও ই-ম্যাথ বাংলাদেশের গবেষক কাজী মো. খায়রুল বাশার। অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উত্তর দেন। পাশাপাশি গণিতের মৌলিক জ্ঞান, নিয়মিত অনুশীলন, গবেষণা এবং সমস্যা সমাধানের কৌশল নিয়ে মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, অলিম্পিয়াডের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের প্রচলিত পাঠ্যক্রমের বাইরেও চিন্তা করতে শেখায়। এর মাধ্যমে তাদের সৃজনশীলতা, মেধা, যুক্তিবোধ এবং জটিল সমস্যা মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাঁর মতে, কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজতে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানোই একজন শিক্ষার্থীর সাহস ও অধ্যবসায়ের পরিচয়। এ ধরনের আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার বিজয়ীদের অভিনন্দিত করার পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গণিতকে ভয় পাওয়ার পরিবর্তে আনন্দের সঙ্গে অনুশীলন করলে বিষয়টির প্রতি স্বাভাবিক আগ্রহ তৈরি হয়। নিয়মিত চর্চার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী চিন্তা এবং কঠিন গাণিতিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইফতেখার মনির তাঁর বক্তব্যে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় গণিতের অপরিহার্যতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তথ্যবিজ্ঞান, নিউরাল নেটওয়ার্ক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির ভিত্তি গঠনে গণিতের অবদান অনস্বীকার্য। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য প্রস্তুত করে। তিনি এ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

অলিম্পিয়াডের আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদাউস বলেন, একটি প্রতিযোগিতার সাফল্য কেবল অর্জিত স্থান দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না। বরং নতুন জ্ঞান অর্জন, কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার মানসিকতা এবং অন্যদের কাছ থেকে শেখার সুযোগও সমান তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আয়োজন বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ গণিত সমিতি, এ. এফ. মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও প্রতিনিধি, আয়োজক কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং প্রতিযোগীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

চুয়েটের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার দেব শিক্ষার্থীদের গণিতের ভিত্তিমূলক বিষয়গুলোতে দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, নিয়মিত অনুশীলন এবং বিভিন্ন ধরনের গাণিতিক সমস্যা সমাধানের অভ্যাস একজন শিক্ষার্থীর চিন্তার পরিধি বাড়ায়। পাশাপাশি যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ ও গবেষণার প্রতি আগ্রহী হওয়ার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন।

অন্যদিকে, বুয়েটের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম গণিত শেখার ক্ষেত্রে মৌলিক ধারণার স্বচ্ছতা, ধৈর্য এবং ধারাবাহিক অনুশীলনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যার সমাধানে তাড়াহুড়ো না করে যুক্তির মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দৈনন্দিন জীবন ও বিভিন্ন বাস্তব ক্ষেত্রে গণিতের বহুমুখী প্রয়োগ সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশ গণিত সমিতির কাউন্সিল সদস্য ও ই-ম্যাথ বাংলাদেশের গবেষক কাজী মো. খায়রুল বাশার জানান, দেশের আটটি অঞ্চলে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে আয়োজিত এবারের প্রতিযোগিতায় প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। তিনি গণিতের চর্চাকে আরও জনপ্রিয় ও বিস্তৃত করতে বাংলাদেশ গণিত সমিতির বিভিন্ন কার্যক্রমের বিবরণ দেন। এ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং শিক্ষার্থীদের গণিত সমিতির কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ গণিত সমিতির উদ্যোগে এবং এ. এফ. মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এ অলিম্পিয়াডের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পর্ব বাস্তবায়ন করে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগ। এবার নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার আঞ্চলিক আয়োজনের দায়িত্ব পালন করল বিভাগটি। চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৭টি কলেজ থেকে মোট ১২৬ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। তাঁদের মধ্যে ১১৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের ৬০ জনই ছিলেন নারী শিক্ষার্থী। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এবারের সেরা দশ প্রতিযোগীর মধ্যে ছয়জনই নারী।

প্রতিযোগিতার ফলাফলে প্রথম স্থান অর্জন করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজ কুরুনি জিহাদ। দ্বিতীয় হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এমডি খলিলুর রহমান রিয়াদ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুমাইয়া আক্তার।

চতুর্থ স্থান অর্জন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বা সওদাগর মাহি। পঞ্চম স্থান অর্জন করে বিশেষ সাফল্য দেখিয়েছেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আহমেদ।

এ ছাড়া ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের সুমি আহমেদ। সপ্তম হয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজমুল হাসান এবং অষ্টম হয়েছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারজানা আক্তার। নবম স্থান অর্জন করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসরাত জাহান। দশম স্থান অর্জন করেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জুনায়েদুল ইসলাম ইসফাত।

প্রতিযোগিতায় সেরা দশে স্থান পাওয়া এই শিক্ষার্থীরা আগামী ৪ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন।

আঞ্চলিক পর্যায়ের আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করায় বাংলাদেশ গণিত সমিতির পক্ষ থেকে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির গণিত বিভাগকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদিরের হাতে এ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। অপরদিকে, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে অতিথি হিসেবে উপস্থিত অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার দেব এবং কাজী মো. খায়রুল বাশারকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মামুন-অর-রশিদ এবং কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক ড. হারধন কুমার মহাজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত সহযোগিতায় দিনব্যাপী এ আয়োজন সফলভাবে শেষ হয়।

ভোরের আকাশ/রই

শেয়ার করুন: