শিরোনাম
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলারঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠকইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলারঢামেকে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজনরাচার দফা কমার পর সোনার ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকাব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেন বলসোনারোবিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দামদেহরক্ষীসহসহ বেলুচ রাজপুত্রকে অপহরণভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক

খাতুনগঞ্জে মসলার বাজারে দরপতন, কেজিপ্রতি কমেছে ৭০০ টাকা পর্যন্ত

বাকি বিল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ৫:০৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ছবি : ভোরের আকাশ
ছবি : ভোরের আকাশ

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে মসলার দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। 

গত এক মাসে বিভিন্ন ধরনের মসলার দাম কেজিপ্রতি ৫০ টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ৭০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকেরা। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ, স্থিতিশীল আমদানি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের স্বাভাবিক প্রবণতাকে এই দরপতনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, ভারত, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়মিত মসলা আমদানি হওয়ায় বাজারে কোনো ধরনের সরবরাহ সংকট নেই। বরং গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে মসলার সরবরাহ বেশি থাকায় দামের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের মসলার দাম গড়ে ১০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ জাহেদি জানান, বর্তমানে বাজারে মান ও উৎসভেদে মসলার দাম গড়ে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। 

তিনি বলেন, “এ বছর আমদানি তুলনামূলক ভালো হওয়ায় বাজারে কোনো ঘাটতি নেই। বরং অনেক পণ্যে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হয়েছে, যার কারণে দাম কমছে।”

একজন বড় পাইকারি ব্যবসায়ী রানা সেন জানান, আগে যে জিরা কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা ৫০০ থেকে ৫১০ টাকার মধ্যে নেমে এসেছে। 

তিনি বলেন, “শুধু জিরা নয়, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গসহ প্রায় সব ধরনের মসলার দামই কমেছে। বিশেষ করে আমদানির চাপ বেশি থাকায় পাইকারি বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে।”

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে মসলার দাম স্থিতিশীল থাকলেও ডলারের তুলনায় টাকার অবস্থান এবং আমদানি সহজ হওয়ার কারণে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। পাশাপাশি বড় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো একসাথে বড় চালান ছাড়ার কারণে বাজারে হঠাৎ করে পণ্যের প্রাচুর্য তৈরি হয়েছে।

তবে এই দরপতনের মধ্যেও একটি নতুন সমস্যা সামনে এসেছে বলে অভিযোগ করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে মসলা প্রবেশ করছে, যা বাজারে বৈধ আমদানির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে এবং বৈধ আমদানিকারকেরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

আমদানিকারক রাজু ঘোষ বলেন, “অবৈধভাবে আসা মসলার প্রবাহ যদি নিয়ন্ত্রণ না করা যায়, তাহলে বৈধ ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। এতে দীর্ঘমেয়াদে পুরো খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং আমদানির আগ্রহও কমে যেতে পারে।”

বাংলাদেশ মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি অমর কান্তি দাশ বলেন, অবৈধ প্রবেশ সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। তিনি জানান, “আগে এ ধরনের প্রবণতা ছিল, তবে এখন তা আরও বেশি। এর কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে অনেক ব্যবসায়ী বড় পরিসরে বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন।”

অন্যদিকে, দেশীয়ভাবে উৎপাদিত মসলার বাজারেও দাম তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। তৈয়্যাবা ট্রেডার্সের মালিক সোলায়মান বাদশা জানান, বর্তমানে হলুদ কেজিপ্রতি প্রায় ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল প্রায় ২১০ টাকা। মরিচ ও ধনিয়ার দামেও অনুরূপ পতন দেখা গেছে।

মেসার্স কে এইচ ট্রেডার্সের মালিক খুইল্যা মিয়া সওদাগর বলেন, “বর্তমান বাজারে মসলা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রয়েছে। দাম কমে যাওয়ায় খুচরা ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তিতে আছেন, তবে পাইকারি পর্যায়ে কিছু ব্যবসায়ী লোকসানের আশঙ্কা করছেন।”

ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই দেশে মসলার চাহিদা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। তবে এবার চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ বেশি থাকায় দাম বাড়ার পরিবর্তে উল্টো কমে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১০ মে পর্যন্ত এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, জিরা ও গোলমরিচসহ বিভিন্ন মসলা বড় পরিমাণে আমদানি হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, শুধু এলাচই আমদানি হয়েছে ১ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন, দারুচিনি ১৩ হাজার ২৯৬ মেট্রিক টন, লবঙ্গ ১ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন, জিরা ৩ হাজার ১১৫ মেট্রিক টন এবং গোলমরিচ প্রায় ১ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টন। এই বিশাল আমদানি বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দামে।

আরও পড়ুন

ঈদে কোরবানির জন্য ১ লাখ ৩২ হাজার পশু প্রস্তুত

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামনে ঈদের সময় আরও কিছুটা চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় বড় ধরনের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। তবে অবৈধ আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বাজারে দীর্ঘমেয়াদে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

ভোরের আকাশ/ র.ই


 

চট্টগ্রামরাজু ঘোষ

শেয়ার করুন: