ঘোড়াঘাটে অনাবৃষ্টিতে আমনখেত ফেটে চৌচির, বাড়ছে সেচ খরচ

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে আষাঢ়-শ্রাবণ পেরিয়ে ভাদ্র মাস শুরু হলেও দেখা নেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির। প্রায় এক মাস ধরে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় উপজেলার উঁচু জমির আমনখেত শুকিয়ে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। কোথাও ধানের চারা হলদে হয়ে যাচ্ছে, আবার কোথাও পর্যাপ্ত পানির অভাবে চারা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারছে না।
উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় তীব্র খরায় সদ্য রোপণ করা আমন ধানের ক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে উঁচু জমির কৃষকেরা শ্যালো মেশিন ও গভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিয়ে ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে সেচের বাড়তি ব্যয় বহনে অক্ষম ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমনের চারা রোপণের কাজ প্রায় শেষ হলেও পর্যাপ্ত পানির অভাবে উঁচু জমিগুলো শুকিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নিচু জমিতেও আমন চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঘোড়াঘাটের চারটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৮ হাজার ১১ টন। তবে অনাবৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষকেরা বলছেন, আমন মৌসুমে সাধারণত বৃষ্টির পানির ওপরই অনেকটা নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে গভীর নলকূপ ও শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
উপজেলার কশিগাড়ী খামার গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি ২৫ শতক জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। বৃষ্টির অভাবে জমি ফেটে যাওয়ায় সেচ দিতে হচ্ছে। ডিজেলের দাম বেশি হওয়ায় গত ১৫ দিনে সেচসহ অন্যান্য খাতে তাঁর ১৬ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ধান চাষ করে লোকসান হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।
একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন ভাতছালা গ্রামের কৃষক আলম মিয়া। তিনি বলেন, সামনে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে পুরো আমন চাষই সেচনির্ভর হয়ে পড়বে। এতে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রফিকুজ্জামান জানান, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সেচব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী বিএমডিএর সঙ্গে আলোচনা করে গভীর নলকূপ চালুর মাধ্যমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ভোরের আকাশ/জেআ