ফুলবাড়ী উপজেলার বারাইহাট বদ্ধভূমি অরক্ষিত

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বারাইহাট বদ্ধভূমি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর আক্রমণে ভারতে যাওয়ার সময় এখানে নির্মমভাবে শতাধিক পরিবারকে হত্যা করে। সে দিন ছিল রক্তাক্ত কালো রাত্রী। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে ছিল শতাধিক লাশ, যা দেখবার কেউ ছিল না। সেইদিনের আজও ভুলার নয়।
স্বাধীনতার পর বদ্ধভূমিটির স্মৃতি রক্ষার্থে স্বম্ভ নিমার্ণে জোড়ালো আন্দোলন হয়। সে দিকের লক্ষ্য রেখে সাবেক সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান (ফিজার) এখানে ১ বিঘা জমির উপর বদ্ধভূমি স্মৃতি রক্ষার্থে স্মরণে স্বম্ভ নিমার্ণ করেন। ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি বদ্ধভূমিটি উদ্ভোধন করেন।
বদ্ধভূমিটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন দিনাজপুর গণপূর্ত অধিদপ্তর। নিমার্ণের শুরুতেই অনিয়ম ও দুর্নীতি ভরা। যে ঠিকাদার কাজটি পেয়েছিল কাজটি করার সময় নিম্নমানের কাজ করেছে। নিমার্ণের গ্রেট বিমগুলি প্লাস্টার নেই। সামনের দরজা স্টিলের হলেও দরজাটির নড়বরে অবস্থা। দরজা থেকে মেইন রাস্তা পর্যন্ত পাকা করা হয়নি। দেয়ালের প্লাস্টার খুলে পড়ছে, বসানো টাইলসগুলি উঠে যাচ্ছে, অনেক টাইলস ভেঙ্গে গেছে।
এখন বদ্ধভূমিটি রক্ষণাবেক্ষণে কেউ নেই। অযত্ন অবহেলায় পড়ে রয়েছে বদ্ধভূমিটি। প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে বদ্ধভূমিটি নির্মাণ করা হয়। এ ব্যাপারে বদ্ধভূমিতে নিহত পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় সুধিজন, রাজনীবিবীদসহ সকল স্তরের জনসাধারণ বদ্ধভূমিটি সংস্কারের জন্য এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভোরের আকাশ/আ.র