ফরিদপুরে সড়ক প্রশস্তকরণে পৌরসভার উদ্যোগ, কমবে যানজট ও জলাবদ্ধতা

ফরিদপুর শহরের ক্রমবর্ধমান যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিক সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে ফরিদপুর পৌরসভা। তিনটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২১ কোটি ১৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক নির্মাণ, প্রশস্তকরণ, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণের কাজ চলছে। এসব কাজ সম্পন্ন হলে নগরবাসীর চলাচলে ভোগান্তি কমার পাশাপাশি যানজট ও জলাবদ্ধতা অনেকাংশে নিরসন হবে বলে আশা করছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, আরইউটিডিপি প্রকল্পের আওতায় ২০ কোটি ৩০ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৩ টাকা ব্যয়ে রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ডিআইবি বটতলা হয়ে তেতুলতলা পর্যন্ত, ফরিদ শাহ রোড থেকে পৌরসভা পর্যন্ত এবং মাতৃমঙ্গল থেকে সহকারী পুলিশ সুপারের বাংলো পর্যন্ত মোট ৪ দশমিক ০৮ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। এসব সড়কে কার্পেটিংয়ের পাশাপাশি ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ করা হচ্ছে।
এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় ৮৮ লাখ ২১ হাজার ৪৯২ টাকা ব্যয়ে চৌরঙ্গী মসজিদ থেকে আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় পর্যন্ত ২৪৩ মিটার কার্পেটিং সড়ক, বিল মামুদপুর নতুনডাঙ্গী থেকে সোনা মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ১ হাজার ৮৫ মিটার এইচবিবি সড়ক এবং মণ্ডলবাড়ি সড়ক লিংক রোডে ২০০ মিটার ইউনিব্লক সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া আইইউআইডিপি প্রকল্পের আওতায় ৯৮ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৪ টাকা ব্যয়ে ৪৭২ মিটার শুকপাক সড়ক ইউনিব্লক এবং তোতার মোড় থেকে মোসলেম খান ব্রিজ পর্যন্ত ২০০ মিটার ঢালাই সড়ক নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব সড়কের বিভিন্ন অংশ সরু ও খানাখন্দে ভরা থাকায় স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটত। অনেক স্থানে দুটি যানবাহন পাশাপাশি চলাচল করাও কঠিন ছিল। সামান্য বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে সৃষ্টি হতো জলাবদ্ধতা। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ত।
রিকশাচালক শরাফত আলী, পথচারী ইব্রাহিম মোল্লা ও আবির হোসেন বলেন, সড়কগুলো প্রশস্ত ও সংস্কার করা হলে যানবাহন চলাচল সহজ হবে। নতুন ড্রেন নির্মাণের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি জমার সমস্যাও কমবে। পাশাপাশি ফুটপাত নির্মিত হলে পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোজাম্মেল শেখ, প্রাইভেটকার চালক আব্দুল আলী ও শওকত হোসেন বলেন, উন্নয়নকাজ শেষ হলে এসব এলাকার দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে। তবে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
এদিকে জেলা পুলিশ হাসপাতালের সামনের সড়ক প্রশস্তকরণের সময় পুরোনো গাছ অক্ষত রাখায় পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, উন্নয়নের পাশাপাশি গাছ সংরক্ষণ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান বলেন, নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে পৌরসভার প্রকৌশলীরা নিয়মিত তদারকি করছেন। তিনিও নিজে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ বুঝে নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, তিনটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে শহরের প্রধান সড়কগুলোর ওপর যানবাহনের চাপ কমবে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং নগরবাসীর চলাচলে স্বস্তি ফিরবে।
ভোরের আকাশ/সু.পা