গাইবান্ধায় প্রকাশ্যে যুবকের ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন, গ্রেফতার

গাইবান্ধায় প্রকাশ্যে দিনের আলোতেই রুবেল মিয়া (২৫) নামের এক যুবকের ডান হাতের কবজি কেটে দিয়েছেন দুর্বৃত্তরা। এ সময় রুবেলের সঙ্গে থাকা বন্ধু মোশারফ রহমানও আহত হন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদতালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্তা কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন। এর আগে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের শাপলা মিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন গাইবান্ধা শহরের মধ্য ধানঘড়া এলাকার আকবর আলীর ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম বাবু (৪৬) ও সুলতান মিয়া (৩৬) এবং একই এলাকার নুর আলমের ছেলে রাকিব মিয়া (২৫)।
কবজি বিচ্ছিন্ন হওয়া রুবেল মিয়া গাইবান্ধা পৌর শহরের মুহুরিপাড়া এলাকার মোকাব্বর মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় বন্ধু মোশারফ রহমানের সঙ্গে দেখা করতে শাপলা মিল এলাকায় যান রুবেল মিয়া। সেখানে পৌঁছাতেই পূর্বশত্রু তার জেরে সুখনগর এলাকার বাবুসহ পাঁচ থেকে সাত জন দুর্বৃত্ত প্রকাশ্যে অতর্কিতভাবে মোশারফ ও রুবেলের ওপর হামলা চালায়। এতে ধারালো দেশীয় অস্ত্র ‘বেকি’র প্রথম আঘাতেই তারা রুবেলের ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এরপর শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। স্থানীয়রা কাটাহাতসহ রুবেলকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। আহত মোশারফকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় রাতেই রুবেলের বাবা মোকাব্বর মিয়া বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নামসহ এতে আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়। ঘটনার পরপরই ৫জনকে আটক করে পুলিশ।
আহত বন্ধু মোশারফ রহমান বলেন, আমাদের সঙ্গে বাবুর জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। আমার নিরীহ বন্ধুকে এভাবে কুপিয়ে হাতের কবজি কেটে দিয়েছে, আমাকেও তারা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে। তিনি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই নারীসহ ৫ জনকে আটক করা হয়। পরে মামলার এজাহারে ও জিজ্ঞাসাবাদে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় রাতেই দুই নারীকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তিন আসামীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে জানান তিনি।
ভোরের আকাশ/জাআ