সাফল্যে শীর্ষে পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ

সাফল্যে শীর্ষে পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, আন্তরিক প্রচেষ্টা ও প্রশাসনের সহোযোগিতায় আনন্দময় পাঠশালায় পরিণত হয়েছে পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে শহরের এস,ডিও রোডে ২০১৬ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। মাত্র ৩১৬ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে স্কুলটির ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১২৪৩ জন এবং ২৪ জন শিক্ষক নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর লেখাপড়ার মান এবং অনিয়ম অব্যাবস্থাপনার বিস্তর অভিযোগ ওঠে। তবে বর্তমানে স্কুলের পরিচালনা পর্ষদ এর সভাপতি পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ডঃ মোহান্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং কঠোর নির্দেশনায় স্কুলটি ঘুরে দাড়ায়। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তানভীর হাসান এবং উপাধ্যক্ষ সাহানারা আক্তারের নিরলস প্রচেষ্টায় চলতি বছর ২০২৬ সালের এস,এস,সি পরীক্ষায় স্কুলটি জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। ১২৫ জন ছাত্র-ছাত্রীর অনুকূলে ১২৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ জন, পাশের হার ৯৯.২০% যাকিনা পটুয়াখালী জেলার মধ্যে ইর্ষনীয় সাফল্য।
স্কুলটির ইর্ষনীয় সাফল্যর অন্ততরালের কথা জানতে সরেজমিন অনুসন্ধান গেলে কথা হয় স্কুলটির উপাধ্যক্ষ সাহানারা আক্তার এর সাথে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় স্কুলটি মানসন্মত আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। তাছাড়া জেলা প্রশাসক ডঃ মোহান্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও স্কুলটিকে নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম এর পাশাপাশি শারীরিক ও মানষিক বিকাশের লক্ষে প্রতিমাসে আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি, নাচ-গান, সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে শিক্ষার্থীদের লেখা নিয়ে দেয়ালিকা প্রকাশ, বই পড়ার আগ্রহ বাড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠানে' পড়ার লাইব্রেরী এবং প্রতি বৃহস্পতিবার স্কুল প্রাঙ্গণে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরীর ব্যবস্থা সহ শিক্ষার্থীদের প্রতি সপ্তাহে গণ-গ্রহ্নাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি শনিবার আর্টস্ অ্যান্ড কালচার ক্লাব,ল্যাগুয়েজ ক্লাব,বিজ্ঞান ও আইসিটি ক্লাব,স্পোর্টস এ্যন্ড হেলদি ক্লাব এর কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। বুদ্ধিগত ভাবে দুর্বল, অতিরিক্ত দুরন্ত,ধারাবাহিক ভাবে ক্লাসে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা হয়েছে স্পেশাল কেয়ার ইউনিট।
এবং প্রতিটি শ্রেণীতে অভিভাবক গ্রুপ খোলা হয়েছে যা শিক্ষার্থীদের সার্বিক মানোন্নয়নে কার্যকর ভুমিকা রাখছে।শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পরিচ্ছন্নতা, ড্রেস কোড,শিষ্টাচার, শৃংখলাবোধ, নিয়মিত হোমওয়ার্ক করা, অধ্যায়ভিত্তিক মুল্যায়ন পরীক্ষার ব্যবস্থা করা, বিদ্যালয়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রতিদিন আংশিক ক্লাসে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিটি ক্লাসে প্রজেক্টর ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পরীক্ষা পদ্ধতি স্বচ্ছ রাখতে উত্তর পত্র মুল্যায়নে কোডিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের আত্মারক্ষার জন্য মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা এবং সার্বক্ষণিক সিসিটিভির মাধ্যমে মনিটরিং করা হচ্ছে।
এদিকে কলেজের পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয় ২০২২ সালে। এবছর দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখা ৩২ জন বলে তিনি জানান।
পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোঃ আব্দুস সাকুর ও ইশতিয়াক আহম্মেদ রাহাত বলেন, প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক বিষয়ে আমরা সন্তুষ্ট। প্রশাসনের উচিত স্কুলটিকে এভাবে কঠোর নজরদারিতে রাখা, তাহলেই প্রতিবছর ঈর্ষণীয় সাফল্য ধরে রাখা সম্ভব । অভিভাবকরা আরো বলেন,আসন সংখা সীমিত হওয়ায় অনেক মেধাবীরা ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে না। আসন সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
সার্বিক বিষয় স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যাক্ষ পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মাসুদুল আলম বলেন, কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ জেলা প্রশাসন কতৃক পরিচালিত। আমাদের জেলা প্রশাসক ডঃমোহান্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী পটুয়াখালীতে যোগদানের পর প্রতিষ্ঠানটির মান উন্নয়নের জন্য বিশদ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরো বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জনবল তথা শিক্ষক নিয়োগ, আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা,বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হলে প্রতিষ্ঠানটি পটুয়াখালী জেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে পারবে।
ভোরের আকাশ/এনএস